মন্ত্রের জপ তুমি যে কোন অবস্থায় মনে মনে করতে পারো। মন্ত্র জপের উদ্দেশ্য এতে তোমার মন এতই শুদ্ধ হয়ে যাবে যে তুমি দেখবে কীভাবে নিজে নিজে তোমার মন প্রতিক্ষণ যেকোন কাজের মধ্যে প্রভুর নাম জপ করছে। দীক্ষার দিনে বলা অনুযায়ী দিনে তিনবার জপ ধ্যান করার পরও তুমি সারাদিন যে কোন কাজ করতে করতে অবিরাম জপ করার অভ্যাস করো। শ্রীশ্রীমায়ের নাম সারদা দেবী, শারদা নয়। সারদার অর্থ ‘সার’ প্রদানকারিণী এবং শারদা শরৎকালে যাঁর পুজো হয় সেই দুর্গাদেবী। শ্রীরামকৃষ্ণের সেবা চালিয়ে যাওয়া, যেমন তুমি নিজের গুরুতে ঈশ্বর বুদ্ধি রাখো তেমনি বুদ্ধি শুদ্ধ হলে সর্বভূতে ঈশ্বর বুদ্ধি রাখবে। অথচ এরজন্য তোমায় কিছু করতে হবে না, কর্তা তো যে হয় সে করে। যে পর্যন্ত তুমি কর্তৃত্ববোধ রাখবে, কিছুই হবে না, কালাকালের কর্তা যা করবেন সেটাই হবে। তুমি কি শ্রীমৎ স্বামী সারদানন্দ মহারাজের লেখা ‘শ্রীরামকৃষ্ণ লীলাপ্রসঙ্গ’ বা ‘শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত’ পড়েছো? শ্রীমা সারদার জীবনী পড়েছো কি? শ্রীশ্রীঠাকুর, শ্রীশ্রীমা, স্বামীজী মহারাজ এবং ওনার গুরুভাইদের জীবনী এবং উপদেশগুলো কয়েক বছর ক্রমাগত পড়তে থাকো।
নিজের ভাবটি অন্যের কাছে প্রকাশিত না হয়। খুব শান্ত হয়ে থাকাই তোমার কাজ। তুমি পড়াশুনা করে এম. এ., পি. এইচ. ডি. ডিগ্রী অর্জন করে নিজেকে এই সংসারে থাকার যোগ্য করো, এটাই তোমার জন্য এখনকার মত কর্মযোগ। শ্রীশ্রীঠাকুর তোমায় ওনার নাম জপ করার অধিকারী করেছেন। উনিই তোমায় ওনার নাম জপ করার সামর্থ্যও দেবেন। ওনার উপর ভরসা রাখো। জপ করোনি, অল্প করেছো, এমনটা ভাবার জন্য যা সময় লাগছে ঐ সময়ে ওনার নাম জপ করো। তোমার এই দুঃসময়ের দিনগুলোতে আমি এটাই বলতে চাই যে, শ্রীশ্রীঠাকুর এবং শ্রীশ্রীমায়ের কাছে প্রার্থনা করতে থাকো, সর্বক্ষণ শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম জপ করতে থাকো। শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম জপ করা ছাড়া আমাদের এই সংসারে বাঁচার আর অন্য কোন উপায় আমার জানা নেই।
আমি তোমার মঙ্গলের জন্য শ্রীশ্রীঠাকুরকে নিরন্তর প্রার্থনা করি। তুমি নিজেই নিজেকে পরিবর্তন করতে চাও না। তুমি নিজের জীবন এইভাবেই অতিবাহিত করতে চাও যে ভাবে চলছে। যদি তুমি ইচ্ছের পরিবর্তন না করো, তবে ধরে নাও তোমার জীবন এইভাবেই চলতে থাকবে। শ্রীশ্রীঠাকুরের কাছে কেউ যদি মকোদ্দমাতে জেতার জন্য বা এমনি কিছু কাজের জন্য যেত তো ঠাকুর দূর থেকেই দেখে বলতেন ঐ ওকে দেখ, ও আবার আসছে। আর যখনও কাছে আসত তখন শ্রীশ্রীঠাকুর বলতেন—এটা আমার কাজ নয়। পঞ্চবটী যাও। ওখানে তোমার লোক বসে আছে। স্বামীজীও নিজের এক গুরুভাইকে চিঠিতে লিখেছিলেন—ভগবান স্বয়ং যখন সাহায্য করেন, তখন জন্মদাতার কাছ থেকেও কিছু চাইতে নেই।
আর এখন দেখো! ছেলের চাকরীর জন্য তুমি ওনাকে খোশামোদ করছ! ছেলের কর্মের কি হবে? তুমি মা হয়ে ওকে জন্ম দিয়েছো, লালন পালন করে বড় করেছো, ওর সেবাও করেছো। এখন ওর জন্য তোমার চিন্তা করার প্রয়োজন নেই, তুমি তোমার কাজ করো। তুমি এটা তো জানো যে শ্রীশ্রীঠাকুর সূচের ছিদ্র দিয়ে উটকে বের করে দিতে পারেন, তারপরও চমৎকারিত্বের কথা বলছো। কিছুদিন পর যখন বুঝতে পারবে, এখানে পুরোটাই আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, তখন কিছু আর বলতে পারবে না, শুধু দেখতেই থাকবে।
‘মধু সঞ্চয়ন’ (স্বামী গহনানন্দ উক্তি সংগ্রহ) থেকে