নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গড়াপেটাকাণ্ডে সোমবারই খিদিরপুর ক্লাবের দুই কর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর কে বা কারা? জোর চর্চা বটতলায়। বেটিং, সেটিং, ফিক্সিংয়ের শিকড় অনেক গভীরে। আকাশ দাস ও রাহুল সাহার গ্রেপ্তারির পর গড়াপেটার চাঁইরা আরও সতর্ক। হাওয়া খারাপ বুঝে আপাতত ভিনরাজ্যে সরে পড়ার প্রস্তুতি চলছে। সময়-সুযোগ পেলে আশ্রয়স্থল হতে পারে বাংলাদেশও। ময়দানে ফিসফাস, সবে কলির সন্ধ্যে। ধৈর্য্য ধরুন। আরও উইকেট পড়া সময়ের অপেক্ষা। গোটা ঘটনায় প্রচণ্ড বিরক্ত আইএফএ। শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সভায় খিদিপুরের শাস্তি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।
ঘরোয়া লিগে গড়াপেটার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু গ্রেপ্তারি এই প্রথম। কেলেঙ্কারির কিং পিন এই আকাশ দাস। ময়দানের এক পরিচিত ফুটবলারের দাদা আড়িয়াদহ এলাকার ত্রাস। ‘সিংহ’ বিক্রমে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। তারই ঘনিষ্ঠ হিসেবে বেলঘরিয়া, আড়িয়াদহে পরিচিত আকাশ। খেপের মাঠেও তার প্রবল প্রতাপ। একটা সময় মেসারার্সের দল গঠনের দায়িত্বে ছিলেন আকাশ। পরে শিবির বদলে নৌকো ভেড়ান খিদিরপুরে। আকাশের ছায়াসঙ্গী রাহুল ওরফে রাজও অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। অবসরের দিকে পা বাড়নো এক ফুটবলারের নামও হাওয়ায় ভাসছে। অতীতে বড় দলের জার্সি গায়ে চাপানো সেই ফুটবলার নাকি ফিক্সিং বিশেষজ্ঞ। ফুটবলার সই করাতে কমিশন আদায় করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
কীভাবে চলে ফিক্সিং? তদন্তে নেমে দুঁদে অফিসারদেরও চোখ কপালে। গড়াপেটার ধরন বদলাতে নিত্যনতুন পরিকল্পনাই ছিল ভরসা। কাগজে-কলমে খিদিরপুরের টিম ম্যানেজার আকাশ। টিম লিস্টেও নাম জ্বলজ্বলে। কিন্তু ডাগ-আউটে তাঁর দেখা মেলে না। গড়াপেটায় অভিজ্ঞ ফুটবলারের চোখ গ্যালারির নির্দিষ্ট স্থানে খুঁজে নিত আকাশকে। সবুজ সংকেত পেলেই কাজ শুরু। কখনও পোশাক পরিবর্তন করে সিগন্যাল দিতেন তিনি। তেমন ছবিও পৌঁছে গিয়েছে তদন্তকারী অফিসারের হাতে। শোনা যায়, ম্যাচের গুরুত্ব অনুযায়ী টাকার পরিমাণ ঠিক করতেন আকাশ। বিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দেওয়ার জন্য দর উঠেছিল ১২-১৪ লক্ষ টাকা। ময়দানের নির্দিষ্ট ক্লাব তাঁবুতে বসেই অপারেশন চালাতেন আকাশ। গড়াপেটার প্রস্তাবে কেউ রাজি না হলে অন্য দাওয়াই। নানাভাবে চাপ বাড়িয়ে কাজ হাসিল করতে রাহুল-আকাশদের জুড়ি নেই। সেসব প্রমাণ জোগাড় করে জাল গোটানোর কাজে নেমেছেন তদন্তকারীরা।