নয়াদিল্লি: ‘ফর্ম ৬’-এ বদল করল কে? সুপ্রিম কোর্টেও উত্তর দিল না নির্বাচন কমিশন। এসআইআর পর্বে ভোটার তালিকার নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্মে বদল করা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন দেশের দুই নির্বাচন কমিশনার। সেখানে নতুন ভোটারের অভিভাবকদের নাম আগের এসআইআরে ছিল কি না, তা নিয়ে ‘স্ব-ঘোষণাপত্র’ দিতে হচ্ছিল। অথচ আইন অনুযায়ী সেই ফর্মে এমন বদল করার ক্ষমতা নেই কমিশনের। তা হলে কী করে হল এই পরিবর্তন? নির্বাচন কমিশনারদের আপত্তির খবর ফাঁস হতেই বিবৃতি জারি করে কমিশনের তরফে জানানো হয়, ‘ফরম ৬’-এ বদলের বিষয়টিতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু তা যে সত্যি নয়, স্পষ্ট জানিয়ে দেয় শীর্ষ আদালত। দেশের প্রধান বিচারপতি সাফ জানান, এব্যাপারে তাঁরা বিন্দুবিসর্গও জানেন না। ‘ফর্ম ৬’ বদল নিয়ে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে এ নিয়ে এক মামলার প্রেক্ষিতে কমিশনের জবাবও চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার পেশ করা হলফনামায় জ্ঞানেশ কুমারের দপ্তর সাফ জানিয়েছে, ‘ফর্ম ৬’ বদল করা হয়নি। অভিভাবকের আগের এসআইআর সংক্রান্ত স্ব-ঘোষণাপত্রটি পৃথক একটি নথি। তবে অনলাইনে তা ‘ফর্ম ৬’-এর বদল হিসাবেই দেখা গিয়েছিল। ওটিপি সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই তা দেখানো হচ্ছিল। ২১ অক্টোবরের পর তা আবার আলাদা ফর্ম রূপে ফিরে গিয়েছে। কিন্তু দুই নির্বাচন কমিশনারের এব্যাপারে আপত্তি তোলার দু’মাস পর নতুন এই ‘স্ব-ঘোষণাপত্র’টি আনা হয়েছে কার নির্দেশে? সেই জবাব দেওয়া হয়নি। এই অস্পষ্টতা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টেও বিষয়টি প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী তথা মমতা তৃণমূল সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী। জবাবে দেশের প্রধান বিচারপতি জানান, ‘আমরা সব জানি। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’
কমিশনের হলফনামাকে প্রতারণা, মিথ্যাচার ও ভণ্ডামি বলে তোপ দেগেছে কংগ্রেস। দলের নেতা জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, ‘গত ২৮ সেপ্টেম্বর কমিশন দাবি করেছিল, ফর্ম ৬ এর সঙ্গে স্ব-ঘোষণার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখে। কিন্তু শীর্ষ আদালত এই দাবি খারিজ করে দেয়। এরপর কমিশন হলফনামায় বলছে, নতুন ওই স্ব-ঘোষণার নথি সম্পূর্ণ পৃথক। ফর্ম ৬-এ বদলই হয়নি। কিন্তু এটা প্রতারণা। কারণ, ওই বাধ্যতামূলক স্ব-ষোঘণা ছাড়া অনলাইনে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে না।’ কমিশন এভাবে ১৯৬০ সালের ভোটার নথিভুক্তকরণ নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।



