Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলায় পরিবর্তন, ‘সমুদ্রসাথী’র ভবিষ্যৎ কী, চিন্তায় মৎস্যজীবীরা

রাজ্যে পরিবর্তনের পর ‘সমুদ্রসাথী’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্নই রয়েছে রাজ্যের উপকূলের লক্ষাধিক মৎস্যজীবীর মনে। তৃণমূল সরকারের ঘোষণার পর দু’বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও ‘সমুদ্রসাথী’ প্রকল্পে তাঁরা এক টাকাও ভাতা পাননি।

বাংলায় পরিবর্তন, ‘সমুদ্রসাথী’র ভবিষ্যৎ কী, চিন্তায় মৎস্যজীবীরা
  • ১০ মে, ২০২৬ ০৬:২৬
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: রাজ্যে পরিবর্তনের পর ‘সমুদ্রসাথী’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্নই রয়েছে রাজ্যের উপকূলের লক্ষাধিক মৎস্যজীবীর মনে। তৃণমূল সরকারের ঘোষণার পর দু’বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও ‘সমুদ্রসাথী’ প্রকল্পে তাঁরা এক টাকাও ভাতা পাননি। এবার নবগঠিত বিজেপি সরকার তাঁদের জন্য নতুন ভাবনা নেবে-এমনটাই আশা করছে মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন।

Advertisement

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য বাজেটে সমুদ্রসাথী প্রকল্প ঘোষিত হয়। প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সমুদ্রে মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এই দু’মাসকে ব্যান পিরিয়ড বলে। তাই এই দু’মাস সমুদ্রসাথী প্রকল্পে মৎস্যজীবীদের পরিবার পিছু পাঁচহাজার করে মোট ১০হাজার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষিত হয়। এজন্য পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪পরগনা এবং হাওড়ার কয়েকলক্ষ মৎস্যজীবী এই প্রকল্পে আবেদনপত্র জমা করেন। কিন্তু, এখনো তাঁরা এক টাকাও ভাতা পাননি। শুধু আশ্বাস মিলেছে।
বাম সরকারের আমলে ব্যান পিরিয়ডে ‘সঞ্চয় ও ত্রাণ’ প্রকল্পে মৎস্যজীবীরা কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে ৪৫০০টাকা করে ভাতা পেতেন। ২০১২ সালে ওই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালে সমুদ্রসাথী প্রকল্প ঘোষিত হলেও ভাতা দেওয়া হয়নি।
দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, দু’বছর পেরিয়ে গেলেও মৎস্যজীবীরা ওই প্রকল্পের সুবিধা পাননি। আমাদের ধারণা, প্রকল্পটি শুধু বিগত সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল। নতুন সরকারের কাছে আমাদের দাবি, ব্যান পিরিয়ডের জন্য আর্থিক সহায়তা করা হোক। এজন্য খুব তাড়াতাড়ি মুখ্যমন্ত্রী সহ বিভিন্ন মহলে দরবার করব।
পূর্ব মেদিনীপুর মৎস্যজীবী ফোরামের সহ-সভাপতি শ্রীকান্ত দাস বলেন, আগে কেন্দ্র ও রাজ্যে আলাদা সরকার ছিল। এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার হয়েছে। কয়েকবছর আগে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য যোজনা’ চালু হলেও তার সঠিক প্রয়োগ হয়নি। আশা করছি, এবার প্রতিটি প্রকল্পের কাজে গতি আসবে।
দীঘা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, অন্য রাজ্যে মৎস্যজীবীরা ব্যান পিরিয়ডে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন। এরাজ্যেও মৎস্যজীবীদের অবিলম্বে সেই সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল বলেন, ঘোষণা করেও মৎস্যজীবীদের জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ করেনি তৃণমূল সরকার। এটা নির্বাচনি ভাঁওতা। উপকূলের মৎস্যজীবীরা ভোটবাক্সে তার জবাব দিয়েছে। বিজেপি সরকার মৎস্যজীবীদের ব্যান পিরিয়ডে আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা নিশ্চয়ই নেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ