


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। নতুন সরকার আসার ১০০ দিনের মধ্যে সেগুলি দৃষ্টিগোচর হবে। সোমবার শিল্পমহলের এক অনুষ্ঠানে এমনই দাবি করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শিল্পমহলকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের পার্টির তরফে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আপনারা ওই পদক্ষেপগুলি দেখতে পাবেন।’ কী ধরনের উদ্যোগ সরকার নিচ্ছে, তার আভাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্পের জন্য আলাদা নীতি আনবে রাজ্য সরকার। আনা হবে ডেটা পলিসিও। পাশাপাশি শিল্পমহলকে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে কর ছাড় ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগও করে দেওয়া হবে।’
এদিন ভারত চেম্বার অব কমার্সের অনুষ্ঠানে শমীকবাবু বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানগত সুবিধা থেকে শুরু করে এক গুচ্ছ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এ রাজ্যে বিনিয়োগ আসেনি। এখানকার লগ্নি উত্তরপ্রদেশ বা উত্তরাখণ্ডে চলে যাচ্ছে। তার অন্যতম কারণ, এখানে কোনো জমি নীতি নেই। ৮২ শতাংশ জমি ক্ষুদ্র চাষির হাতে। কোনো বড়ো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক জমি মালিকের কাছে পৌঁছে আলাদা আলাদা করে জমি কেনা সম্ভব নয়। তাই নির্দিষ্ট জমি নীতি প্রয়োজন।’ শমীকবাবুর দাবি, ভারী শিল্প না এলে শিল্পায়ন সম্পূর্ণ হয় না। অর্থাৎ বড়ো লগ্নি আনার জন্য যে তাঁরা জমি নীতির বদল আনবেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। পাশাপাশি ছোটো ও মাঝারি শিল্পের দিকেও নজর থাকবে বলে জানান তিনি। চা, পোশাক বা পর্যটন শিল্পের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তিতে জোর দিতে আনা হবে ডেটা পলিসি। শিল্পমহলকে আর্থিক সুবিধা দিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার একযোগে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে বলেও দাবি করেন শমীকবাবু। বলেন, ‘কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, এ রাজ্যের উন্নয়নে টাকা কোনো সমস্যা হবে না। এমনকি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বাংলার জন্য অসাধারণ কিছু পদক্ষেপ করতে চান বলে জানিয়েছেন।’
শমীকের এদিনের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনাধীন বিগত সরকারের সমালোচনাও ছিল যথেষ্ট। জমি জটে রেলপ্রকল্প থমকে থাকা থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনায় খনিজ তেল উত্তোলনে অসহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামে খনিজ উত্তোলনে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন তিনি। সেসব জট যে আর থাকবে না, তা বোঝান। এদিন তাঁর তরফে শিল্পমহলকে বারবার আশ্বস্ত করা হয় এই বলে যে, তাঁরা সার্বিকভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তিনি বুঝিয়েছেন, সরকারের কাজে বিজেপি নাক গলাবে না। তাঁর কথায়, ‘তোলাবাজি বা সিন্ডিকেটের সমস্যা আর হবে না। তবে এই সমস্যা রাতারাতি কেটে যাওয়ার নয়। টাকা যদি দিতেই হয়, তাহলে কর্মচারীদের দিন। কোনো দলীয় ব্যক্তিকে নয়।’ শমীকবাবুর আরও আশ্বাস, তাঁরা দলের তরফে একটি হেল্পলাইন চালু করবেন। যেখানে কেউ টাকা দাবি করলে শিল্পোদ্যোগীরা অভিযোগ জানাতে পারবেন। সেই মতো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -নিজস্ব চিত্র