


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে ধৃত বিপিন রাইয়ের কাছে সুপারির টাকা পৌঁছেছিল। বিপিন নিজেও ঝাড়খণ্ডে গ্যাংস্টার তথা কোল মাফিয়া হিসেবে পরিচিত। তার মাধ্যমে টাকা যায় কন্ট্রাক্টের বরাত নেওয়া বড় গ্যাংস্টারের কাছে। ধৃতকে জেরা করে সিবিআইয়ের হাতে এই তথ্য উঠে এসেছে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কে তাকে সুপারির টাকা দিয়েছিল, তার নামও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রেই সুপারির বরাত দেওয়া ব্যক্তি ও মূল প্ল্যানারের কাছে পৌঁছনোর ব্যাপারে আশাবাদী তদন্তকারীরা। কয়েকদিন আগে হরিদ্বার থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে রাস্তায় গ্রেপ্তার হয় রাজ কুমার সিং। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরের বাসিন্দা বিপিন রাই ও সঞ্জয় রায় নামে দুজনের নাম জানতে পারেন। তদন্তে উঠে আসে, বিপিন ঝাড়খণ্ডের কোল মাফিয়া। তার সঙ্গে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের একাধিক ‘সুপারি কিলার’এর যোগাযোগ রয়েছে। বিকাশের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, গুলি চালানো, তোলাবাজি সহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। সে নিজেও একজন গ্যাংস্টার। রাজ তদন্তকারীদের জানায়, এই বিপিনের কাছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সুপারির টাকা এসেছিল। সেই টাকা সে পাঠিয়েছিল কন্ট্রাক্ট কিলারের কাছে। কিন্তু বারবার সিম বদল করায় ধরা যাচ্ছিল না বিপিনকে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সে বারাণসীতে রয়েছে। বারাণসী পুলিশ লাইনের কাছ থেকে বিপিনকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। বিপিনকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, আসানসোলের এক কোল মাফিয়ার মাধ্যমে মধ্যমগ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই ব্যক্তি তাকে জানায়, কন্ট্রাক্ট কিলারের খোঁজ দিতে। সেইমতো সে সুপারি কিলার জোগাড় করে দেয়। এরপর তাকে সুপারির টাকা পাঠানো হয়। সেই টাকা সে পৌঁছে দিয়েছিল গ্যাংস্টারের কাছে। কিছু টাকা সে ঘটনায় ধৃত মায়াঙ্ক মিশ্রাকে দিয়েছিল। আর বাকি শার্প শ্যুটারদের কিছু টাকা অগ্রিম দিয়েছিল। এই সূত্র ধরেই টাকা যে দিয়েছিল, তার কাছে পৌঁছে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। তাকে জেরা করেই প্ল্যানারের নাম পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।