Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড: ধৃত বালিয়ার রাজ সিংয়ের বিজেপি-সংস্রব ঘিরে চাঞ্চল্য

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে অভিযুক্ত শার্প শ্যুটার উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা ঠাকুর রাজ সিংয়ের অপরাধ জগতে হাতেখড়ি এক ডিম ব্যবসায়ীকে খুনের মাধ্যমে।

চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড: ধৃত বালিয়ার রাজ সিংয়ের বিজেপি-সংস্রব ঘিরে চাঞ্চল্য
  • ১২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব  প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে অভিযুক্ত শার্প শ্যুটার উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা ঠাকুর রাজ সিংয়ের অপরাধ  জগতে হাতেখড়ি এক ডিম  ব্যবসায়ীকে খুনের মাধ্যমে।  সেই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল রাজ। বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বালিয়ায় রাজ দাবাং হয়ে উঠেছিল। একের পর অপরাধ করেও রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ। এবার চন্দ্রনাথ খুনে শার্প শ্যুটার হিসেবে কাজ করাই শেষ পর্যন্ত কাল হলো তার। চন্দ্রনাথকে খুন করার ‘বরাত’ রাজ সিংকে কে দিয়েছিল, এখন সেটাই জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। 

Advertisement

চন্দ্রনাথ খুনের ধরন দেখে তদন্তকারীরা বুঝে যান, এর পিছনে রয়েছে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের শার্প শ্যুটাররা। তা না হলে এভাবে অপারেশন চালিয়ে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তদন্তে উঠে আসে রাজ সিংয়ের নাম। তারপরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার প্রোফাইল দেখে রীতিমতো চমকে উঠেছেন তদন্তকারীরা। বালিয়ার এই শার্প শ্যুটার একাধিক বিজেপি নেতার অত্যন্ত কাছের লোক বলে পরিচিত। বিভিন্ন নেতাদের বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তাঁদের পারিবারিক অনুষ্ঠানে যেত। তাঁর পরিবার জানিয়েছেন, বিধান পরিষদের সদস্য রবিশঙ্কর সিংয়ের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লখনউ গিয়েছিল রবি। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আপের প্রাক্তন বিধায়ক বিনয় মিশ্রা সোমবার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, বিজেপি নেতার প্রচারে দেখা গিয়েছে রাজকে। এমনকি যোগী রাজ্যের এক মন্ত্রী তার কাঁধে হাত দিয়ে রয়েছেন, এমন ছবিও তিনি পোস্ট করেছেন। তদন্তে এও উঠে এসেছে স্থানীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিল এই শার্প শ্যুটার। 
তদন্তকারীরা জেনেছেন, ২০২০ সালে ১৩ অক্টোবর বালিয়ার কোতোয়ালি থানা এলাকার আনন্দপল্লিতে অজিত নামে এক ব্যবসায়ী খুন হন। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় রাজ ও তার সহযোগী গোবিন্দ সিং। কিছুদিন পর জামিনে মুক্তি পায় সে। ফিরে এসেই সে এলাকায় তোলাবাজি, অপহরণ শুরু করে। এরপর গ্যাংস্টার শেরুর দলে যোগ দেয়। তার কাছেই গুলিচালনার প্রশিক্ষণ নেয়। তারপরই শেরুর নির্দেশমতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অপারেশন চালাচ্ছিল সে। তার বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের বালিয়া ও বিহারের বক্সারে খুন, খুনের চেষ্টা, গুলি চালানো সহ ১২টির বেশি কেস রয়েছে। কাকে কাকে সে খুন করেছে তাকে জেরা করে জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ