Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কৃষ্ণের মধুবন থেকে রাজবাড়ির দালান, থিমের মোহজালে আচ্ছন্ন চণ্ডীতলা-শ্রীরামপুর

রূপে তোমায় ভোলাব না। এই ভাবনার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে রূপ আর অরূপের মণিকাঞ্চণ যোগই থিমপুজোর সার কথা। কবির বয়ান থেকে এভাবে সরে এসেও কাব্যিক মহিমায় সেজে আত্মপ্রকাশ করছে বাহারি থিম।

কৃষ্ণের মধুবন থেকে রাজবাড়ির দালান, থিমের মোহজালে আচ্ছন্ন চণ্ডীতলা-শ্রীরামপুর
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রূপে তোমায় ভোলাব না। এই ভাবনার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে রূপ আর অরূপের মণিকাঞ্চণ যোগই থিমপুজোর সার কথা। কবির বয়ান থেকে এভাবে সরে এসেও কাব্যিক মহিমায় সেজে আত্মপ্রকাশ করছে বাহারি থিম। তাই তো দুর্দান্ত অসুরের সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী দেবীর রূপকে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে কৃষ্ণপ্রেমের মায়াকাননে। আবার সাবেক জীর্ণ জমিদারবাড়ির আদলকে তুলে এনে সেখানেই পুজোর আয়োজন থিম করা হচ্ছে। একদিকে যেমন পুরাণকে বদলে দেওয়া হচ্ছে, তেমনই ফিরিয়ে আনা হচ্ছে পুরনোকে। এটাই থিমের মায়া।

Advertisement

এই মায়ার জালেই দর্শককে বেঁধে ফেলতে এখন অন্তহীন প্রয়াস শ্রীরামপুর থেকে চণ্ডীতলায়। সাজিয়ে তোলার ইঁদুর দৌড়ে স্বমহিমায় হাজির থাকতে সাজোসাজো রব। সেই শঙ্খনাদের সুর ধরে শ্রীরামপুরের ঠাকুরদাস বাবু লেনের বান্ধব সঙ্ঘের ছোট মাঠ হয়ে উঠছে ‘মধুবন’। শ্রীকৃষ্ণের নান্দনিক লীলার সেই অনাবিল ক্ষেত্রই বান্ধব সঙ্ঘের থিম। নয়নাভিরাম অন্দরবাহির সজ্জায় রাধা-কৃষ্ণের লীলার মৃগয়াভূমিতেই হাজির থাকবেন দেবী দুর্গা। হাজির থাকবেন সাবেক সাজে। রাজকীয় মহিমায়। রাজরাজেশ্বরী রূপে তিনি সপরিবারে আবির্ভূতা। বৃন্দাবনের ‘মধুবন’ কৃষ্ণ, রাধার প্রেমের জন্য চর্চিত। সেই আদলও খানিকটা পুজোমণ্ডপে তুলে আনা হচ্ছে। থাকছেন রাধা ও কৃষ্ণ, তাঁদের পরিচিত যুগলমূর্তিতে। মণ্ডপ গড়তে কিছু খিলান তৈরি করতে হয়েছে। সেগুলিকেও পুরনো চালচিত্রের আদলে সাজিয়ে ‘মধুবন’কে আর মধুর করে তোলা হচ্ছে। পুজো উদ্যোক্তা শুভেন্দু ঘোষ বলেন, ‘আমাদের মধুবন এক মোহময় সাজে সাজবে। দেবী থেকে কৃষ্ণলীলা প্রাঙ্গণ সবই আকর্ষণ করতে বিশেষ আলোর বাহার থাকছে।’
শ্রীরামপুরে পুরাণের ভিন্ন নির্মাণকে ছাড়িয়ে ডানকুনির পথে এগিয়ে গেলে পড়ে বরিজহাটি। সেখানকার নবারুণ সঙ্ঘ পুরাণ নয়, পুরনোকে আশ্রয় করেছে। বিষয়টি আসলে থিম পুজোর অন্দরে থাকা এক অভিনব থিম পুজো। সাবেক সময়কালের রাজা, জমিদারদের ঠাকুরদালানে দেবী আসতেন। রাজকীয় বৈভবের সে কাল হারিয়ে গিয়েছে। পুজোও ব্যক্তিগত বলয় ছাড়িয়ে এখন সর্বজনীন। তাই ক্ষয় ধরেছে জমিদারি দেব দেউল থেকে বৈভবের প্রাচীরে। সে সবই তুলে আনা হচ্ছে মণ্ডপসজ্জায়। থিমের দাপুটে কালে সাবেক পুজোর হাল হকিকতের সঙ্গে পরিচয় করাতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাই সুনিপুণভাবে পুরনো আমলের আরও ভালো করে বললে প্রাক স্বাধীনতা আমলের দেবীপ্রতিমার আদল তৈরি করা হয়েছে। একচালার কাঠামো গড়াই শুধু নয়, সিংহের বিশেষ আকারও সেই সময়ের প্রতিমার একটি বিশেষ চিহ্ন। আর আছে হলদেটে রং। বর্ণে, গন্ধে, রূপে সাবেক রসাভাস তৈরিতে কোনও ফাঁক রাখা হচ্ছে না। ঝাড়বাতি থাকবে। থাকবে ক্ষয়াটে রাজকীয় বৈভবের পরিবেশ দেখানোর জন্য নিভু নিভু আলোকসজ্জা। পুজো উদ্যোক্তা সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা একটা সময়কে ফিরে দেখতে চেয়েছি। সেইভাবেই প্রতিমা, মণ্ডপ ও আলোকসজ্জার বিন্যাস করা হয়েছে।’
সাবেক ডেনিস কলোনি শ্রীরামপুর থেকে চণ্ডীতলার রাজকীয় মাটি মায়াবী হয়ে উঠছে। প্রাচীন শিকড়ে নিবিষ্ট থেকে নতুন ভাবের পল্লবে হয়ে উঠছে পারিজাত বৃক্ষের মতো। ঘোর লাগাচ্ছে বহুবর্ণ আয়োজন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ