নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শিশুদের শিক্ষাদান ও পুষ্টিরক্ষার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নিতে চলেছে চণ্ডীতলা এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতি। ব্লকের সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পরিকাঠামো আধুনিক মানের করা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই দফায় দফায় ওই কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়। এবার এক সঙ্গে আট অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব বাড়ি তৈরির কাজে হাত দিয়েছে পঞ্চায়েত সমিতি।
জানা গিয়েছে, অর্থ স্থায়ী সমিতির সভা ডেকে আধুনিক ভবন নির্মাণের খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তারা। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ। এবার কাজ শুরুর তৎপরতা শুরু হয়েছে। সমিতির সভাপতি মলয় খাঁ বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি আধুনিক করে তোলার কাজ দীর্ঘবছর ধরে অবহেলিত। আমরা ধাপে ধাপে উন্নত করার চেষ্টা করছি। পঞ্চায়েত সমিতির লক্ষ্য, প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব আধুনিক ভবন থাকবে। যাতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ না ওঠে।
পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর এবং শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। চণ্ডীতলা এক নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির পরিকল্পনা প্রশংসাযোগ্য। এটিকে মডেল করে অন্যান্য ব্লককেও উৎসাহিত করা হবে। আজিজ শেখ নামে চণ্ডীতলার এক বাসিন্দা বলেন, শিশুদের আমরা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঠাই। কিন্তু উদ্বেগ থাকে। কেন্দ্রের পরিকাঠামো খারাপ থাকায় আতঙ্ক হয়। বর্তমানে চণ্ডীতলাজুড়ে সেই পরিকাঠামোয় বদল আসছে। এটি খুবই আনন্দের।
হুগলির মানচিত্রে চণ্ডীতলা বিশেষ স্থান অধিকার করে। একদা বনেদি তালুকে সময়ের সঙ্গে অনেক বদল এলেও শিক্ষা নিয়ে এখনও স্পর্শকাতর চণ্ডীতলা। বিস্তীর্ণ এলাকায় সেই নিরিখে বহুসংখ্যক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু অভাব ছিল উপযুক্ত পরিকাঠামোর। কোথাও ভাড়াবাড়ি, কোথাও ক্লাব, জরাজীর্ণ পরিকাঠামোতে চলছিল শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টিবর্ধনের কাজ। এবার সেই পরিকাঠামো আমূল বদলাতে চলেছে পঞ্চায়েত সমিতি।