শ্রীকান্ত পড়্যা, চণ্ডীপুর: মঙ্গলবার বেলা তখন ১২টা। চণ্ডীপুর ব্লকে ১১৬বি জাতীয় সড়ক লাগোয়া বৃন্দাবনপুরে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সাপ্লাই অফিসে কোমরসমান জল। সেখানে যাতায়াতের জন্য চারটি ব্যারেল বেঁধে অস্থায়ী জলযান বানানো হয়েছে। অফিসের গেটে বসেছিলেন সংস্থার মেদিনীপুরের জোনাল ম্যানেজার দীপক মণ্ডল। ১৬আগস্ট রবিবার রাত ১২টা থেকেই এই সাবস্টেশন জলের তলায়। এখান থেকেই চণ্ডীপুর ব্লক, ভগবানপুর-১ ও খেজুরি ব্লকের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হত। টানা দু’দিন সাবস্টেশন অকেজো থাকায় চণ্ডীপুরে পানীয় জলের জন্য হাহাকার পড়ে গিয়েছে। রেয়াপাড়া ও হেঁড়িয়া সাবস্টেশন থেকে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হলেও বেশিরভাগ জায়গা এখনও বিদ্যুৎহীন। ব্লকের ন’টি পঞ্চায়েতের কয়েকহাজার পরিবার জলবন্দি রয়েছে।
এই জলযন্ত্রণা নিয়ে ক্ষুব্ধ চণ্ডীপুরের বাসিন্দারা। এদিন মগরাজপুরের রণজিৎ জানা, প্রতুল দাস বলেন, ঠিকমতো খাল সংস্কার না হওয়ায় একদিনের বৃষ্টিতে পুরো চণ্ডীপুর প্লাবিত হয়েছে। পরিবর্তনের সরকার আর্থমুভার দিয়ে কি শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালাবে? মগরাজপুর, নরখাল, কুমিরমারি, ধান্যশ্রী ও নাড়াদাঁড়ি খাল ঠিকমতো সংস্কার করলে এমন সমস্যায় পড়তে হত না।
চণ্ডীপুরের গা ঘেঁষে চলে গিয়েছে হলদি নদী। অথচ, এই হলদির চর এলাকা ক্রমশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় চণ্ডীপুরের জল প্রায় ৪০কিমি ঘুরপথে কালীনগরে রসুলপুর নদীতে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকার জল হলদি নদীতে ফেলার ব্যবস্থা হলে নিকাশি সমস্যার অনেকটাই সমাধান হত। চণ্ডীপুরের জালপাই, চৌখালি, ঈশ্বরপুর, বৃন্দাবনপুর ১ ও ২, দিবাকরপুর ও নন্দপুর-বরাঘুনি পঞ্চায়েত জলের তলায় গিয়েছে। জালপাইয়ের প্রধান অনিমেষ দাস বলেন, সোমবার পর্যন্ত ত্রাণসামগ্রী বলতে পঞ্চায়েত পিছু ১০০কেজি চাল ও ৫০কেজি চিঁড়ে পাওয়া গিয়েছে। এধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল বলে মনে হয় না। মঙ্গলবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত, অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) চিত্রদীপ সেন, মহকুমা শাসক মানসকুমার পণ্ডা চণ্ডীপুর বিডিও অফিসে যান। সেখানে নিকাশি সমস্যা নিয়ে জরুরি বৈঠক হয়। যন্ত্র নামিয়ে খালের পলি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেইমতো মগরাজপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় খাল সাফাই হয়।
স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য স্বপন প্রধান বলেন, ব্লকে এমন দুর্যোগ চললেও বিডিও ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন না। চণ্ডীপুরজুড়ে পানীয় জলের হাহাকার পড়ে গিয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় জেনারেটর চালিয়ে পানীয় জল সরবরাহ করছি। টানা দু’দিন সাবস্টেশন জলের তলায় থাকায় চণ্ডীপুর বিদ্যুৎহীন।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার জোনাল ম্যানেজার দীপক মণ্ডল বলেন, আপাতত হেঁড়িয়া ও রেয়াপাড়া সাবস্টেশন থেকে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। জল না কমা পর্যন্ত এই সাবস্টেশন চালু করা যাচ্ছে না।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত বলেন, ক্যানেল পরিষ্কার করার জন্য সেচ দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ শিবিরে আসা মানুষজনকে সকালে টিফিন, দুপুর ও রাতে খাবার দেওয়া হচ্ছে। গতকাল কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আজ সেরকম কোনও সমস্যা নেই। -নিজস্ব চিত্র