Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফ্রান্সে বন্ধ হলেও চলছে চন্দননগরের স্কুলে, ঐতিহ্য স্মরণে খাম প্রকাশ করল ডাকবিভাগ

স্রষ্টার দেশেই গিয়েছে বন্ধ হয়ে। কিন্তু চালু আছে সেই দেশের এক সাবেক কলোনিতে।

ফ্রান্সে বন্ধ হলেও চলছে চন্দননগরের স্কুলে, ঐতিহ্য স্মরণে খাম প্রকাশ করল ডাকবিভাগ
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: স্রষ্টার দেশেই গিয়েছে বন্ধ হয়ে। কিন্তু চালু আছে সেই দেশের এক সাবেক কলোনিতে। যা এখন একটি স্বাধীন দেশ। স্বাধীন ভারতের এক প্রান্তিক জনপদ হল চন্দননগর। শিক্ষা-ব্যবস্থার এক হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য সে শহরের একটি স্কুল সযত্নে ধরে রেখেছে। বাংলার বিখ্যাত বিপ্লবী কানাইলাল দত্তের নামাঙ্কিত সেই স্কুল। সেই বিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্য এবার স্মরণীয় করে রাখল ভারতীয় ডাক বিভাগও। 

Advertisement


চন্দননগরের কানাইলাল বিদ্যামন্দিরের ফরাসি বিভাগে ১৬৪ বছর ধরে ফরাসি শিক্ষা প্রদান চলছে। প্রাথমিক উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য সেখানে সিইপিই(ফ্রেঞ্চ) পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা চালু। ১৯৮৯ সালের পর ফরাসি দেশেও সে পরীক্ষা আর নেওয়া হয়নি। কিন্তু চলছে চন্দননগরে। সেই ঐতিহ্য স্মরণ করেই বিশেষ খাম প্রকাশ করেছে ডাকবিভাগ।
বৃহস্পতিবারের অনুষ্ঠানে ডাকবিভাগের কর্তা, ইউনেস্কোর প্রতিনিধি, চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী, কানাইলাল বিদ্যামন্দির-ফরাসি ভাষার প্রধান শিক্ষক সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় সহ বিশিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে চন্দননগর পোস্টঅফিস ও পরে রবীন্দ্রভবনে আবেগঘন একটি অনুষ্ঠান হয়। আপ্লুত সোমনাথবাবু বলেন, ‘একটি ইতিহাসকে আরও ঐতিহাসিক করে তুলল ডাকবিভাগের সিদ্ধান্ত। বর্তমানে আমরা বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি ফরাসি শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছি। ভবিষ্যতের কথা তো কেউ জানে না। কিন্তু যে সম্মান ডাকবিভাগ চন্দননগর ও আমাদের শিক্ষাকেন্দ্রকে দিয়েছে তা অমূল্য। ইন্দো-ফরাসি সংস্কৃতির যে ধারাবাহিকতা তাতেও ওই সম্মান প্রদানের ঘটনা বিশেষ প্রভাব ফেলবে।’ অনুষ্ঠানে আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েন মেয়র রাম চক্রবর্তীও। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘খুবই প্রাসঙ্গিক কালে ডাকবিভাগের স্বীকৃতি মিলল। আজ যখন বাঙালির সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার উদ্যোগ পরিকল্পিতভাবে নেওয়া হচ্ছে তখন বাংলার সংস্কৃতিকে ডাকবিভাগ দলিল করে রাখল। এটাই বাঙালির সংস্কৃতি যে সেখানে ভিন দেশের সংস্কৃতিও সম্মানের সঙ্গে বহমান থাকে।’ ডাককর্তারা জানান, তাঁরাও ওই বিশেষ খাম প্রকাশ করতে পেরে সমৃদ্ধ হয়েছেন। কারণ একটি সময়ের দলিল ধরে রাখা হল।


ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৬২ সালে চন্দননগরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘একলে দ্য সেন্ট মেরি’। পরে তার নাম হয় ‘কলেজ দ্যুপ্লে’। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সেটি হয় কানাইলাল বিদ্যামন্দির(ফরাসি) নামে। সেই সাবেক কাল থেকে সেখানে প্রাথমিক উর্ত্তীণের পরীক্ষা সিইপিই চালু আছে। বর্তমানে চন্দননগর বাদে একমাত্র আর একটি দেশ, মাদাগাস্কারে এই শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে। ফলে বলা চলে, হারানো এক শিক্ষাব্যবস্থার ধারক হিসেবে সম্মানিত কানাইলাল বিদ্যামন্দির(ফরাসি)।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ