নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। ভাইফোঁটার পরদিন থেকেই উদ্বোধনের তোড়জোড়ও শুরু করেছে অনেক পুজো কমিটি। আর জগদ্ধাত্রী পুজো মানে একদিকে আলোর চমকপ্রদ রোশনাই অন্যদিকে মূর্ত, বিমূর্ত বাহারি থিমের মায়া। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। শতাধিক পুজোর বেশিরভাগেই থিমের ঝলক ইতিমধ্যেই নজর কাড়তে শুরু করেছে। গঙ্গাপারের ঐতিহাসিক ও ক্ষুদ্র জনপদের নিজের রং বদলাতে শুরু করেছে। পথঘাট ঢাকা পড়তে শুরু করেছে মোহন আলোকসজ্জার জগৎখ্যাত প্রস্তুতিতে। চন্দনগরের পুজোই বোধহয় বাংলার একমাত্র পুজো যার প্রতি স্তরে থিমের বাহার। হ্যাঁ, প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জার খ্যাতি তো আছেই দেবীর সাজেও থাকে থিমের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য।
৩৭ বছরে পা দেওয়া চন্দনগরের নিয়োগীবাগানের এবারের থিম দর্পণদৃষ্টি। কিছুটা দার্শনিক ও কিছুটা বাস্তবঘেঁষা ওই থিমে মানুষের স্বচ্ছতার দাবিকে তুলে ধরা হয়েছে। একগুচ্ছ আয়না, নানা আকারের জাল, কাগজের বিশেষ শিল্প, গুচ্ছগুচ্ছ মডেল, মানুষের মুখের আদলে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপ। বিমূর্তকে মূর্ততায় ধরে রাখতে জোর তৎপরতা চলছে মণ্ডপে।
পুজো উদ্যোক্তা পীয়ূষ বিশ্বাস বলেন, ‘মানুষ নিজেকে স্পষ্টভাবে দেখে আয়নায়। মানুষের জীবন প্রভাব ফেলে সমাজে। সার্বিক স্বচ্ছ মানুষই দিতে পারে স্বচ্ছ সমাজ। সেই সারসত্যকেই আমরা থিমের সাজে পেশ করব। থিমের বাহার টপকে গেলে থাকবে সাবেক ধাঁচের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। তবে সেখানে এবার ভিন্ন চমক। এবার থেকেই দেবীর আকার বাড়াতে শুরু করেছেন উদ্যোক্তারা। প্রথমবারেই প্রায় সাড়ে ৬ ফুট উচ্চতা বাড়ছে দেবীর। আলোকসজ্জাতেও থাকছে থিম, স্থাপত্য। দুটি তোরণ তৈরি হচ্ছে দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি ও টুইন টাওয়ারের আদলে। পাশাপাশি, মণ্ডপসজ্জা ও পথের বাতিতেও থাকবে চমক।’
চন্দননগরের উত্তরাঞ্চল বিগ বাজেটের পুজোর জন্য বরাবর চর্চিত। এবারও সেখানে থাকছে রাজকীয় আয়োজন। দেবী সেখানে রাজরাজেশ্বরী সাজে থাকবেন। তাই তার সাজ তৈরি করা হচ্ছে রঙিন রাংতার মোড়কে। মণ্ডপে রাজকীয় বাহার আনতে রাজস্থানের প্যালেসকে হাতিয়ার করেছেন উদ্যোক্তারা। তবে দেবী হৈমন্তিকার আরধানায় মণ্ডপসজ্জা তাই সেই প্যালেসের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হৈমন্তিকা প্যালেস’। নিপুণ বহিঃসজ্জায় মণ্ডপে রাজকীয় মহলের বিন্যাস আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফাইবার। ইতিমধ্যেই অনেকটা মাথা তুলেছে দেবীর রাজভবন। প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতা ও আয়তনেও ৭০ ফুট মণ্ডপ নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজকীয় মহলে দেবী থাকবেন সাবেক ধাঁচায়। আলোকসজ্জায় থিমের অনুকরণ থাকবে। পুজো উদ্যোক্তা মোহিত নন্দী বলেন, আমাদের পুজো এবার ৫৯ বছরে পা দিয়েছে। দর্শকদের জন্য রাজকীয় পরিবেশ ও আলোর মোহনসাজ তৈরি করা হচ্ছে।
ব্যস্ততা তুঙ্গে শহরে। ব্যস্ততা শিল্পীর প্রয়াসেও। আর তার হাত ধরেই সাবেক ফরাসডাঙায় এখন পালাবদলের পালা। গঙ্গার বাতাস যেন ময়দানবের আঙুলের ছোঁয়া। শহর বদলে যাচ্ছে মায়ানগরীতে।