নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গত পাঁচ বছরের হিসেব ধরলে এই প্রথম চন্দননগরে একগুচ্ছ সুবর্ণজয়ন্তী ও হীরকজয়ন্তী বর্ষের জগদ্ধাত্রী পুজো হতে চলেছে। চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই একটি বিশেষ বিষয়। তার উপর একাধিক ‘জুবিলি’ বর্ষের পুজো কেন্দ্র করে রীতিমতো বাড়তি উৎসাহের বলয় তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জগদ্ধাত্রী পুজোর কেন্দ্রীয় কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছর ১০টি সুবর্ণ ও হীরকজয়ন্তী বর্ষের পুজোর আয়োজন হচ্ছে। তার মধ্যে অন্যতম চন্দননগরের অন্যতম প্রাচীন কাপড়পট্টির পুজো। যা এবার ২৬০ বছরে পা দিচ্ছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বর্তমান ভৌগলিক অবস্থানের বিচারে ‘জুবিলি’ বর্ষের মাত্র দু’টি পুজো ভদ্রেশ্বরের। বাকি আটটি পুজোই চন্দননগরের।
চন্দননগর কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, ‘২০২২ সালে একগুচ্ছ রজত, সুবর্ণ সহ নানা ‘জুবিলি’ বর্ষের পুজো হয়েছিল। কিন্তু ২০২০ ও ’২১ সালে কোভিডের কারণে পুজোর আয়োজন করা হয়নি। সেই কারণে ওই বছরগুলির ‘জুবিলি’ পুজোর আয়োজনও ২০২২ সালে হয়েছিল। কিন্তু একটি বছরের নিরিখে প্রায় ১০টি সুবর্ণ বা হীরকজয়ন্তী বর্ষের পুজো সাম্প্রতিক অতীতে চন্দননগর-ভদ্রেশ্বরে হয়নি। ফলে এবারের পুজো নিয়ে বাড়তি উৎসাহের বাতাবরণ আছে। যা এবার ভিন্নমাত্রা জুড়ছে।’ ২০২২ সালের বিশেষ বছরকে বাদ দিলে ২০২৩ সালে ছ’টি ও ২০২৪ সালে সাতটি ‘জুবিলি’ বর্ষের পুজোর আয়োজন হয়েছিল। অন্যদিকে ২০১৯ সালেও গোটা সাতেক ‘জুবিলি’ পুজো ছিল। সেই নিরিখে এবার ২০২৫ সালে এসে একসঙ্গে দশটি পুজো জুবিলির আয়োজনে মেতেছে। আশ্চর্যজনকভাবে সবক’টি পুজোই হয় রজত নয় হীরকজয়ন্তী বর্ষের পুজো। এই বিশেষ মণিকাঞ্চণ যোগও চন্দননগরের সাম্প্রতিক পুজো ইতিহাসের নিরিখে বিরল। কেন্দ্রীয় কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সুরেরপুকুর গড়েরধার, যমপুকুরধার, হালদারপাড়া ষষ্ঠীতলা, দিনেমারডাঙা পঞ্চপাণ্ডব ও নিমতলা স্পোর্টিংয়ে এবার রজতজয়ন্তী বর্ষের পুজো হবে। অন্যদিকে হরিদ্রাডাঙা, কপালীপাড়া সাহেববাগান, বারাসাতা ব্যানার্জিপাড়া ও তেলেনিপাড়া কুলতলায় হীরকজয়ন্তী বর্ষের পুজো হবে। শহরের অন্যতম প্রাচীন বা আদি পুজোর অন্যতম কাপড়পট্টিতে দুই শত বর্ষোত্তর হীরকজয়ন্তী পুজো হবে।
চন্দননগরে জুবিলি বর্ষের পুজো মানেই বিশেষ আয়োজন। আলোকশিল্পের মায়ানগরীতে আলোয় চমকে দেওয়ার আয়োজন যেমন স্বাভাবিক, তেমনই থাকে প্রতিমা থেকে মণ্ডপসজ্জার বাহুল্য। আবার ‘জুবিলি’ বর্ষের পুজো কমিটিগুলির মধ্যেও থাকে প্রতিযোগিতা। কেন্দ্রীয় কমিটি বিশেষভাবে ওই সব পুজোকে চিহ্নিত করে। ফলে বিশেষ বর্ষে বিশেষ ব্যবস্থাপনার দিকে নজর। উদ্যোক্তাদের দাবি, গুচ্ছ সুবর্ণ ও হীরকজয়ন্তী বর্ষের পুজো থাকলে অন্য পুজো কমিটিদের উপরেও প্রতিযোগিতার ময়দানে টিকে থাকার চাপ বাড়ে। কারণ জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রতিটি পর্বে থাকে প্রতিযোগিতা আর পুরস্কার। অতীতে দেখা গিয়েছে, প্রতিযোগিতার আবহে বাড়তি চাকচিক্য পুজোয় জুড়ে যায়। এবারের পুজো মরশুমের গতিপ্রকৃতিও তেমনই। ফলে আলোর মায়ানগরীতে এবারের জগদ্ধাত্রী পুজো আয়োজন আরও আকর্ষক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিজস্ব চিত্র