নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো খুব জনপ্রিয়। সময়ের সঙ্গে উত্তরোত্তর বাড়ছে জনপ্রিয়তার পারদ। সেই সূত্র ধরে নতুন করে তিনটি পুজো চন্দননগরের কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির তালিকায় নাম লেখাল। সবমিলিয়ে এই মরশুমে চন্দননগরে বৈধ পুজোর সংখ্যা হবে ১৮০। তবে পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবারই নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময় প্রায় প্রতিবছরই পুজোর সংখ্যা বাড়ছে। এই বাড়বাড়ন্তে প্রভাব ফেলতে পারেনি করোনাও। কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তিনটি নয়া পুজো ভদ্রেশ্বর থানার অন্তর্গত অঞ্চলে হতে চলেছে। এর ফলে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো বিস্তৃত হচ্ছে চাঁপদানি পুরসভা পর্যন্ত।
কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি জানিয়েছে, নতুন তিনটি পুজো হল, ভদ্রেশ্বর কাঁটাডাঙা সুকান্তনগর, মানকুণ্ডু মিলননগর ও সুভাষপল্লি উত্তরপাড়া। প্রথমটি চাঁপদানি পুরসভার অন্তর্গত। ২০২২ সালে একসঙ্গে পাঁচটি নয়া পুজো চন্দননগরে শুরু হয়েছিল। ২০২৩ সালে দু’টি বৈধ পুজোর তালিকায় যোগ হয়। ২০২৪ সালে পুজোর সংখ্যা বাড়েনি। এবার একসঙ্গে তিনটি এ তালিকায় জায়গা পেল। ফলে চন্দননগর কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির অন্তর্গত পুজোর সংখ্যা ১৭৭ থেকে বেড়ে হচ্ছে ১৮০। কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, ‘বছরের পর বছর চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রী পুজো কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রশাসনিক সহযোগিতায় পালিত হচ্ছে। বিশ্বখ্যাত বিসর্জনের শোভাযাত্রাও সেভাবে পরিচালিত হয়। প্রায় প্রতিবছর নতুন পুজো যুক্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময় সে বাড়বাড়ন্ত আরও গতি পেয়েছে। পুজো ও ভাসানকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতার পরিসরে লড়াই বাড়বে। ওই ইতিবাচক লড়াইও আলোর শহরের বিখ্যাত, ঐতিহ্যের পুজোতে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।’
জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে চন্দননগরের নাগরিক আগ্রহের কারণে অনেকগুলি পুজো হয়। কিন্তু সেসব পুজোর প্রশাসনিক বৈধতা থাকে না। তার জন্য পুজোর বহু প্রাচীন কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। অনেকেই পুজো শুরু করার পর অনুমোদন চান। কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের নিজস্ব নিয়ম মেনে সেই আবেদনকে স্বীকৃতি দেয় বা বাতিল করে। সেই বিধিবদ্ধ পদ্ধতির মধ্য দিয়েই নতুন তিনটি পুজো ২০২৫ সালে অনুমোদন পেয়েছে। পুজোর প্রশাসনিক গাইড ম্যাপেও জায়গা পাবে তারা। অর্থাৎ আলোর মায়ায় তাক লাগিয়ে দেওয়া চন্দননগরে দর্শকের জন্য বাড়ছে গন্তব্যস্থল।