সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শনিবার রাতে প্রথা মেনে নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরের রাধা মদনগোপাল মন্দিরে শুরু হল চন্দনযাত্রা। তিনদিন ধরে এই উৎসব চলবে। উৎসবের মূল আকর্ষণ অষ্টসখী সহ রাধা মদনগোপালের সারারাত নৌকাবিহার। সেইজন্য রাধা মদনগোপাল মন্দির প্রাঙ্গণেই একটি কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত পিতলের নৌকায় অষ্টসখী সহ রাধা মদনগোপালকে ঘোরানো হবে।
শনিবার রাত ১২টায় পদাবলী কীর্তনের মধ্যে দিয়ে এই চন্দনযাত্রা উৎসবের সূচনা হয়। সোমবার বৈশাখী পূর্ণিমা। ওইদিন রাত ১০টা থেকে পরের দিন, মঙ্গলবার সকাল ৭টা পর্যন্ত অষ্টসখীদের নিয়ে নৌকাবিহার করবেন রাধা মদনগোপাল। তারপর পদাবলী কীর্তনের মধ্যে দিয়ে চন্দনযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি হবে। প্রতিদিন রাতে রাধা মদনগোপালকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি জলাশয়ে নিয়ে আসা হয়। চন্দনযাত্রা উপলক্ষ্যে শ্রীবিগ্রহে চন্দন লেপন করা হয়। এমনকী, জুঁই, বেল, পদ্ম, গোলাপ, রজনীগন্ধা সহ বিভিন্ন ফুল দিয়ে শ্রীবিগ্রহকে সাজানো হয়। একারণে অনেকেই এই উৎসবকে ফুলদোলও বলেন। মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত প্রভুপাদ কৃষ্ণগোপাল গোস্বামী বলেন, গৌর আনা প্রভু শ্রীঅদ্বৈত আচার্যের প্রাণবল্লভ রাধা মদনগোপালের পরম পুণ্যময় এই তিথি। শনিবার তৃতীয়ার রাত থেকে শুরু হয় চন্দনযাত্রা উৎসব। তিনদিনব্যাপী উৎসবে প্রতিদিন রাত ১০টায় মূল মন্দির থেকে সখীদের নিয়ে নৌকাবিহারে আসেন রাধা মদনগোপাল। সোমবার বৈশাখী পূর্ণিমার পুণ্যলগ্নে রাধা মদনগোপাল মন্দিরের চন্দনযাত্রা উৎসব শেষ হবে। সোমবার নবদ্বীপ ও মায়াপুরে বিভিন্ন মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের ফুলদোল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে এই তিথিতে এদিন সাড়ম্বরে গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়ার বিবাহবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হবে।
গৃহবধূ তিয়াসা গোস্বামী বলেন, নৌকাবিহারের পর সকালে শ্রীমন্মহাপ্রভু ও রাধা মদনগোপালকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। পুরি, জিলিপি, পোয়া কচুরি, বিভিন্ন ভাজা, রসগোল্লা, পান্তুয়া, সরপুরিয়া, সরভাজা, পাটিসাপটা সহ বিভিন্ন পিঠে, মিষ্টান্ন ও ফল নিবেদন করা হয়। সেগুলি আমরা নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে বাড়িতে তৈরি করি।উল্লেখ্য, প্রায় ৫০০বছর আগে পুরীধামের নরেন্দ্র সরোবরে রাধা মদনমোহনকে নিয়ে চন্দনযাত্রা উৎসব শুরু হয়েছিল। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ং ওই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য স্মরণ করে প্রতিবছর নবদ্বীপে এই উৎসব যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়। -নিজস্ব চিত্র