নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টালিগঞ্জ গণধর্ষণ কাণ্ডে উঠে এল কসবার মনোজিৎ প্রসঙ্গ। নির্যাতিতার দাবি, মনোজিতের মতো প্রভাবশালী চন্দনও। তরুণীর কথায়, ‘সবসময় নিজের ক্ষমতার বড়াই করত। ওর বিরুদ্ধে কেউ কোনও কথা বললে, একটাই উত্তর— ‘দেখে নেব’। প্রভাব খাটিয়ে সবাইকে দমিয়ে রাখত। কসবা ল’ কলেজে মনোজিৎ মিশ্র যেমন ছিল, চন্দন সেই মনোজিতেরই যেন আরেকটা রূপ।’
হরিদেবপুর থানায় অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগের ৪৮ ঘণ্টা পর মুখ খুললেন নির্যাতিতা তরুণী। কথা বলতে গিয়ে তাঁর গলায় এখনও ভীতির ছাপ স্পষ্ট। চাঞ্চল্যকর বক্তব্য রাখলেন তিনি। সোমবার তিনি জানালেন, একের পর এক আইনছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টা করেও যেভাবে প্রভাব খাটিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে রাখত কসবা ল’ কলেজের মনোজিৎ অ্যান্ড কোং। ঠিক তেমনই হরিদেবপুর এলাকার ‘মনোজিৎ’ হল চন্দন মল্লিক। স্থানীয় একটি বিখ্যাত দুর্গাপুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত এই যুবক। টালিগঞ্জের রিজেন্ট কলোনিতে গণধর্ষণকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত। তার সঙ্গী দেবাংশু বিশ্বাস ওরফে দীপ ‘দাদার অন্যতম অনুরাগী’। চন্দনের কথামতোই যাবতীয় কাজ করত সে। এমনটাই দাবি নির্যাতিতার। তরুণী বলেন, ‘শাসক দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় রীতিমতো ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাত চন্দন। যেন ও গোটা রাজ্য চালায়। ওর হাতেই সব ক্ষমতা।’
নির্যাতিতার দাবি আরও, ‘চন্দনের মোবাইলে একাধিক মহিলার অশ্লীল ছবি, ভিডিও ছিল। সেগুলি অন্য মেয়েদের দেখাত। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের গ্রুপেও শেয়ার করত।’ অভিযোগকারিণীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জেনেছে, প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর পর চন্দন সম্পর্কে এইসব তথ্য জানতে পারেন তরুণী। এরপরেই প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু, তাঁর কমন ফ্রেন্ড গ্রুপের মধ্যেই ছিলেন চন্দন। তাই প্রেমের সম্পর্ক থেকে বের হলেও চন্দনের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। শুক্রবার রাতে সেই সূত্রেই দেবাংশুর জন্মদিনের পার্টির টোপ দেওয়া হয়। কিন্তু, তরুণী রিজেন্ট কলোনির বাড়িতে গিয়ে দেখেন, কোনও পার্টি নেই সেখানে। তাঁর দাবি, তখনই বেরিয়ে যেতে চান। কিন্তু, তাঁকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর করে চন্দন ও দেবাংশু। এরপরেই তরুণীকে জোর করে মাদক মিশ্রিত পানীয় খাইয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশের কাছে তরুণীর দাবি, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জেরে আক্রোশের বশে ধর্ষণ করা হয়েছে তাঁকে। নির্যাতিতার এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হলে গোটা বিষয়টি স্পষ্ট হবে। সেক্ষেত্রে তাদের জেরায় জানা যাবে কী উদ্দেশে শুক্রবার মাদক আনা হয়েছিল? তাহলে কী গণধর্ষণ পূর্বপরিকল্পিত? লালবাজার জানিয়েছে, সোমবার রাত পর্যন্ত ফেরার চন্দন ও দেবাংশুকে পাকড়াও করা যায়নি। তাদের খোঁজ চলছে।