উজির আলি, চাঁচল: মালদহের চাঁচল বিধানসভায় বিচারাধীন ভোটারদের তালিকা নিয়ে জোর চর্চা চলছে শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক মহলে।
উজির আলি, চাঁচল: মালদহের চাঁচল বিধানসভায় বিচারাধীন ভোটারদের তালিকা নিয়ে জোর চর্চা চলছে শাসক ও বিরোধী রাজনৈতিক মহলে।
এই আসনে গত বিধানসভা ভোটে যেখানে মোট ভোট পড়েছিল ১ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৭৯টি। সেখানে এবার প্রায় ৭৩ হাজার ৮৯৭ জন ভোটার বিচারাধীন থাকায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় কত ভোটারের নাম উঠবে, তা নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক দলগুলির নজর এখন সেই তালিকার দিকে। বিশেষ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুতে একদিকে যেমন সরব, তেমনই উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রচারেও ঝাঁপিয়ে পড়েছে। চলছে বিভিন্ন অঙ্ক কষা। কারণ, গত বিধানসভা ভোটে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রে প্রায় ৬৭ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। মোট ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৯৬৬টি ভোট পেয়ে দলের প্রার্থী জিতেছিলেন। সেখানে বিজেপি পায় ৪৮ হাজার ৬২৮, কংগ্রেসের ঝুলিতে যায় ৩১ হাজার ৩৪৬ ও অন্যান্যরা পায় ৩ হাজার ৭৩৯টি ভোট। প্রায় ৬৭ হাজার ৩৩৮ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখা, এই আসনে এবারের ভোট সমীকরণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা। এই বিপুল সংখ্যক ভোটার তালিকার বাইরে থাকলে নির্বাচনের ফলাফলে তার প্রভাব পড়বেই। বিপুল নাম বাদ গেলে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের বড় ক্ষতি হতে পারে। সেসব নিয়েও হিসেব কষতে শুরু করেছেন দলের নেতারা। চাঁচল ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শেখ আফসার আলি বলেন, আমরাও চাই সব বিচারাধীন ভোটারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হোক। তবে, প্রচারে উন্নয়নই আমাদের প্রধান হাতিয়ার। মানুষের সমর্থন আমাদের সঙ্গেই রয়েছে।
কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, সব ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রে বিশাল ক্ষতি হবে। মালদহ জেলা কংগ্রেসের সহসভাপতি তথা চাঁচলের প্রাক্তন বিধায়ক আসিফ মেহবুবের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বেকায়দায় ফেলা হয়েছে। যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সংখ্যালঘুদের উপর। একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিএমের নেতাদের গলাতেও। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য জামিল ফিরদৌস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিচারাধীন ভোটারদের নাম দ্রুত তালিকাভুক্ত না হলে আইনি পথে আন্দোলনে নামবে বাম শিবির। এমনকি যাঁদের নাম তালিকায় উঠবে না, তাঁদের আইনি সহায়তাও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির ইন্ধনেই এই গোটা প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মালদহ উত্তরের বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ শর্মার দাবি, এই প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের। এর সঙ্গে বিজেপির কোনো যোগ নেই। বিবেচনাধীন বিষয়টি আদালত দেখছে। বরং রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।