নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কমলা রঙের একটা ছোট্ট গাড়ি। যে গাড়িকে দেখে বাঙালি ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যেতে পারেন। ছোটো গাড়ি নিয়ে বাঙালির নস্ট্যালজিয়া কম নয়। তবে ১৯৭১ সালের ইতালির যে ফিয়েট গাড়ি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেটিও ইতিহাস বহনকারী। ছোটো এই কমলা রঙের গাড়িটি রবিবারের সকালে ‘দ্য স্টেটসম্যান’ ভিনটেজ গাড়ির শো আলো করে দাঁড়িয়ে ছিল। এই গাড়ির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।
ফিয়েটের এই ছোটো গাড়িটি এখন কলকাতার বাসিন্দা বৃন্দা সরকারের কাছে। তিনি বলছিলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর আহত সেনাবাহিনীদের জন্য এই গাড়িটি ইতালি থেকে আনা হয়েছিল। এই গাড়ির পুরোটাই হাত দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অর্থাত্, পায়ে ব্রেক, ক্লাচ, অ্যাক্সিলেটর কিছুই ছিল না।’ যদিও এই গাড়িটি বৃন্দার হাতে আসার পর রেস্টোরেশনের সময় কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে গাড়িটির রং এখনও একই রয়েছে। আরসিটিসি পোলো গ্রাউন্ডে রবিবারের সকালে এই ছোটো গাড়িটি নিয়ে উত্সাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। কমলা এই গাড়ির পাশেই গোলাপি রঙের আর একটি ভক্সওয়াগন। উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এই গাড়ির মালিকানাও এখন বৃন্দার কাছে। এককালে এই গোলাপি গাড়ির মালিক ছিলেন এক চিকিত্সক দম্পতি। বর্তমান মালকিনের কথায়, ‘ওই চিকিত্সক দম্পতি ছিলেন নিঃসন্তান। তাঁরা এই গাড়িটিকে নিজের মেয়ে বলতেন। প্রায় ৩০ বছর এই গাড়ি নিয়ে তাঁরা প্রায় গোটা ইউরোপ ঘুরেছেন। শেষে কলকাতায় চলে আসার সময় এই গাড়িটিও জাহাজে করে কলকাতায় নিয়ে আসেন। তারপর ২০২০ সালে এই গাড়ি আমাদের হাতে আসে।’ উজ্জ্বল গোলাপি রঙের এই ভক্সওয়াগন ছোটোদের পছন্দের হয়ে উঠেছিল।
অজস্র পুরোনো গাড়ির মধ্যে ছিল ডজ কিংসওয়ের একটি গাড়ি। যা এককালে কলকাতার পুলিশ কমিশনার ব্যবহার করতেন। সেই গাড়িটিও লালবাতিসমেত রাখা ছিল। স্কুলশিক্ষক বাবার কেনা কমলা রঙের অস্টিন গাড়িটি অশোককুমার দে আগলে রেখেছেন এখনও। এছাড়াও ছিল অজস্র পুরোনো বাইক, ল্যান্ড রোভার, মার্সিডিজ, মরিস প্রভৃতি গাড়ি। এসব দেখে এক মুহূর্তে ফিরে যাওয়া যায় পুরোনো কলকাতায়।