Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে বুড়ি, চামুণ্ডা মায়ের মুখোশ পুজো

৫০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে বুড়ি, চামুণ্ডা মায়ের মুখোশ পুজো
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: বুড়ি এবং চামুণ্ডা মা দুই বোন। এমনই বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে পুরাতন মালদহ শহরের বাচামারির বাসিন্দাদের মধ্যে। সেজন্য ওই পাড়ার ৩০০ মিটার দূরত্বে দু’টি মন্দিরে দুই বোনকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সেখানে তাঁদেরকে শ্রদ্ধা ও ভক্তি সহকারে নিত্যপুজো দেওয়া হয়। কিন্তু এত কাছে থেকেও তাঁরা সারা বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান না। দুই বোনের দেখা হয়, ফি বছর  একবার, শুধু মাত্র নববর্ষে। অর্থাৎ বৈশাখ মাসের ৩ তারিখে। শহরে দুই মায়ের মুখোশ মিলন প্রথার পরম্পরা শুধু কয়েক বছর ধরে নয়। ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে আজও ঐতিহ্য এবং গড়িমায় তা অমলিন হয়ে রয়েছে। 

Advertisement

১১ এপ্রিল বুড়ি এবং চামুণ্ডা মায়ের মুখোশ পুজো হয়েছে। ধাপে ধাপে আগামী দিনে নিয়ম রীতি মেনে দুই মায়ের মিলন অনুষ্ঠানের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বুড়ি এবং চামুণ্ডা মায়ের মন্দির  সূত্রে জানা গিয়েছে, ২ এবং ৩ বৈশাখ মিলন প্রথা উৎসব শুরু হচ্ছে। এই উৎসবের সঙ্গে বাসিন্দাদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। পুজোর কয়েকদিন সিংহভাগ বাসিন্দা নিরামিষ আহার করেন।
২ বৈশাখ অর্থাৎ প্রথম দিন সন্ধ্যায় মায়ের আরতি হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ভক্তরা মশাল নৃত্য করবেন। এরপর গম্ভীরা উৎসব শুরু হবে। ভোর রাত পর্যন্ত গানের আসর চলবে। পরদিন ৩ বৈশাখে মূল প্রথা শুরু হবে। প্রথমে মন্দির থেকে চামুণ্ডা মায়ের মুখোশ নৃত্য বের হবে। অন্যদিকে বুড়ি মায়ের বিরাট শোভাযাত্রা বের হয়। মুখোশ নৃত্যের সঙ্গে ঢাক, ঢোল, কাঁসর বাজানো হয়। শোভাযাত্রার মাঝে বুড়ি এবং চামুণ্ডা মায়ের মিলন করানো হয়। ওই দৃশ্য দেখতে প্রচুর ভক্ত ভিড় করেন। 
কী কারণে বুড়ি এবং চামুণ্ডা মায়ের মিলন হয়? স্থানীয় এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, পুরাতন মালদহ এলাকা বেশ প্রাচীন। ৫০০ বছর আগে এক সাধু বাচামারি এলাকায় থাকতেন। তিনি ভোরে মহানন্দা নদীতে স্নান করতে গিয়ে একটি পাত্রে কিছু মুখোশ পেয়েছিলেন। মুখোশ নিয়ে এসে তিনি মন্দিরে রাখেন। কিন্তু মাঝেমধ্যে মুখোশগুলি নীচে পড়ে থাকত। ওই সাধু স্বপ্নাদেশ পান, তাঁরা দু’বোন। তাঁদের আলাদা রাখতে। তারপর থেকে একই এলাকায় কিছুটা দূরত্বে দু’টি মন্দির তৈরি হয়। বছরে একবার বৈশাখ মাসে তাঁদের দেখা হয়। 
পুরাতন মালদহ পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা চামুণ্ডা মন্দির কমিটির অন্যতম সদস্য শক্রঘ্ন সিনহা বর্মা বলেন, মন্দির এবং আমাদের চামুণ্ডা মা বেশ আবেগের। ছোটবেলা থেকে দুই মায়ের মিলন নৃত্য দেখে বড় হয়েছি। এটা আমাদের শহরের প্রাচীন ঐতিহ্য। বুড়ি মায়ের মন্দির কমিটির সদস্য অভিষেক সরকার বলেন, দুই মায়ের মিলন প্রথা ৫০০ বছরের ঐতিহ্য। ২৮ চৈত্র থেকে আমরা নিরামিষ আহার করি। মূল উৎসব ২ এবং ৩ বৈশাখ। এবারে  বাইরে থেকে গম্ভীরা দল আসবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ