সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ঘিরে ক্রিকেটের নতুন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে বন্দর শহরে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে দু’দিনের হলদিয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। প্রয়াত তমালিকা পণ্ডাশেঠের স্মৃতিতে এই টুর্নামেন্টের আয়োজক হলদিয়ার আইকেয়ার শিক্ষা সংস্থা। প্রতিযোগিতা ঘিরে আইপিএলের মতো উত্তাপ ছড়িয়েছে শিল্পশহরে। প্রতিটি ম্যাচেই টানটান উত্তেজনা। আলিগড়ের রামু যাদব, কলকাতার রোহিত সিংদের ব্যাটিং চোখ জুড়িয়ে দিয়েছে। প্রখর রোদের মধ্যেও খেলা দেখতে দর্শকরা ছাতা হাতে ভিড় করেছেন। ওম সাঁইবাবার টিমের দিল্লির ছেলে নিখিল সিং শেষ বলে ছয় মেরে এদিন যেভাবে দলকে জিতিয়েছেন, তা বহুদিন মনে রাখবে হলদিয়াবাসী। এই টুর্নামেন্ট উপলক্ষে হলদিয়ার ক্ষুদিরামনগর সংলগ্ন এইচআইটি গ্রাউন্ড মিনি ইডেনের রূপ নিয়েছে।
হলদিয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সিজন ওয়ান ক্রিকেট টুর্নামেন্টের অন্যতম কর্মকর্তা সুদীপ্তন শেঠের দাবি, শিল্পশহরে এই প্রথম এত বড়মাপের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানে ১২টি দল অংশ নিয়েছে। জেলা ও রাজ্য ছাড়াও ভিনরাজ্যের শতাধিক ক্রিকেটার খেলেছে। এটি টেনিস বলের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। এই টুর্নামেন্টের বড় আকর্ষণ ইন্ডিয়ান স্ট্রিট প্রিমিয়ার লিগের(আইএসপিএল) মুম্বই, দিল্লির তারকা ক্রিকেটাররা খেলতে এসেছেন। আগামী বছর আরও বড় আকারে বেশি দল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট হবে। এই ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণচন্দ্র শেঠ। আইকেয়ারের উদ্যোগে এর আগে বড়মাপের ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়েছে। এবছর থেকে শুরু হয়েছে ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। হলদিয়ার এবং জেলার ছেলেমেয়েদের আরও ক্রীড়ামুখী করতে এবার থেকে প্রতিবছরই ফুটবল ও ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হবে বলে জানিয়েছেন সুদীপ্তন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নকআউট পদ্ধতিতে ১২টি দলের খেলা হবে। দু’টি সেমি ফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে মোট ১১টি খেলা হচ্ছে দু›দিনে। প্রথম দিনে ৪টি খেলা হয়েছে। আলো কমে আসায় একটি ম্যাচ বাতিল হয়। আজ, শুক্রবার মোট ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
হলদিয়ার টুর্নামেন্ট ১০ ওভারের বদলে ৮ ওভারের হচ্ছে। দর্শকদের জন্য জায়ান্ট স্ক্রিন, বিশাল স্কোর বোর্ড, ঘরে বসে খেলা দেখার জন্য অনলাইন ব্যবস্থা সবই রয়েছে। আধুনিক ক্রিকেটের প্রযুক্তিগত সব উপাদানই মজুত। উদ্যেক্তারা বলেন, বৃহস্পতিবার মাতিয়েছেন রাজস্থানের রাজু পালধী, যিনি আইএসপিএলের সেরা ফিল্ডার, হরিয়ানার আকাশ ক্ষেত্রী। এদিন ম্যাচ দেখতে মাঠে ছিলেন লক্ষ্মণ শেঠ, আশিস লাহিড়ি, সায়ন্তন শেঠ, স্পর্শিতা পণ্ডাশেঠ, প্রণব দাস, সুদর্শন মান্না। তাঁরা সেরা খেলোয়াড়দের ট্রফিও তুলে দেন।