নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: হিজুলি ১ পঞ্চায়েতের এক প্রাক্তন প্রধানের পর এবার দেখা গেল রানাঘাটের ভোটার চাকদহের কাউন্সিলার। একইসঙ্গে চাকদহ পুর এলাকাতেও নাম রয়েছে তাঁর। এই তথ্য জানার পরই নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে জেলার রাজনীতিতে। তৃণমূল যখন ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে সরব, তখন খোদ তাদের দলেরই একাধিক নেতা-কর্মী কী করে একাধিক জায়গার ভোটার, তাই নিয়ে সুর চড়িয়েছে বিজেপি।
ঘটনাটি কী? দেখা গিয়েছে, কল্যাণী মহকুমার চাকদহ পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সত্যজিৎ বিশ্বাস ওরফে সাধন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি এবং তাঁর স্ত্রী সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার। কিন্তু একইসঙ্গে সস্ত্রীক ওই পুর প্রতিনিধির নামের হদিশ মিলেছে রানাঘাট পুর এলাকাতেও। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কোর্টপাড়ার ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে সত্যজিৎ বিশ্বাস এবং তার স্ত্রী শম্পা বিশ্বাসের। সেখানে শম্পার বাপের বাড়ি। কীভাবে একইসঙ্গে দু’জায়গায় নাম রয়েছে ওই তৃণমূল নেতার? সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিধায়ক তথা নদীয়া দক্ষিণ বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় বলেন, এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তৃণমূল নিজেরাই ভূতুড়ে ভোটার ধরতে গিয়ে নিজেদের কবর খুঁড়ে ফেলেছে। এতদিন এই ভোটারদের দিয়েই রাজনীতির আখের গুছিয়েছে ওরা। এই ভূতুড়ে ভোটার বাদ গেলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পতন নিশ্চিত।
যদিও রাজনৈতিক আক্রমণের সামনে পড়ে এবং প্রশ্নের উত্তরে এহেন পরিস্থিতির দায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের উপরেই চাপিয়েছেন চাকদহের তৃণমূল কাউন্সিলার সত্যজিৎ। তিনি বলেন, পারিবারিক সমস্যার জন্য এক সময় আমি রানাঘাটে শ্বশুরবাড়িতে থাকতাম। তখন সেখানে ভোটার তালিকায় নাম তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমি চাকদহে নিজের বাড়িতে চলে আসি। তাও ২০১৩ সালে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ৭ নম্বর ফর্ম জমা দিয়ে রানাঘাট থেকে নাম কাটতে আবেদন করেছিলাম। একই সঙ্গে চাকদহে নাম তোলার আবেদন করেছিলাম। এখানে আমার নাম উঠেও গিয়েছিল। কিন্তু তারপরে কেন রানাঘাট থেকে নাম বাদ যায়নি? এর দায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের। তবে এখনও আমার নাম রানাঘাটে রয়েছে, এটা জানার পর আমি পুনরায় নাম প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করছি।
জানা গিয়েছে, চাকদহের অন্যতম দাপুটে তৃণমূল নেতা সত্যজিৎ। একদিকে যখন তৃণমূলের বুথ থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির জন্য আলাদা করে সংগঠনকে সাজানো হচ্ছে, তখন তাদের দলেরই এক নেতার নাম দু’জায়গায় থাকা নিয়ে রাজনীতির তরজা চরমে।
যদিও বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান তথা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনও ব্যক্তির নাম দুই জায়গায় থাকাটা কাম্য নয়। আজকে বিজেপি এই উদাহরণকে সামনে এনে যদি রাজনীতির ঘোলা জলে মাছ ধরতে চায়, তাহলে আমরাও প্রশ্ন করতে চাই— বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নাম পৃথক তিন জায়গায় এল কী করে? নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতাই এর জন্য দায়ী। আমরা যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করছি, সেখানে সত্যজিৎ বিশ্বাস এবং তাঁর স্ত্রী শম্পা বিশ্বাসের নাম রয়েছে। অবশ্যই দু’জনের নাম রানাঘাট থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করব আমরা। এক সময় তাঁরা আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। কিন্তু এখন আর থাকেন না।