সংবাদদাতা, কাটোয়া: মঙ্গলকোটে বচসার জেরে চড় মারায় জখম যুবকের মৃত্যু হল। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার এনআরএসে যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। কানে অস্ত্রোপচার করেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। গোটা অভিযোগ উঠেছে মঙ্গলকোটের তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিনিতর সদস্যার স্বামীর বিরুদ্ধে। পুলিস জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বুদ্ধদেব বাগদি (৩০)। তাঁর বাড়ি মঙ্গলকোটের পালিগ্রাম অঞ্চলের রঘুনাথপুর গ্রামে। জানা গিয়েছে, বুদ্ধদেব পেশায় মোড়বাঁধ এলাকায় পাওয়ার হাউসে অস্থায়ী ঝাড়ুদার পদে কাজ করতেন। সরস্বতী পুজো উপলক্ষ্যে তিনি বাড়ি এসেছিলেন। পুজোর আগের দিন ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রতিবেশী রাজু মাঝির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বুদ্ধদেব। রাজুর স্ত্রী মণিকা মাঝি মঙ্গলকোট পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অভিযোগ, সামান্য একটা বিষয় নিয়ে দু’জনার মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, তখনই আচমকা বুদ্ধদেবের কানে সজোরে চড় কষিয়ে দেয় রাজু। এরপরেই বুদ্ধদেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর তাঁর পরিবারের সদস্যরা সেদিনই তাঁকে নিয়ে প্রথমে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। পাশাপাশি মঙ্গলকোট থানায় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে এসেছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। পরে তাঁকে সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু বুদ্ধদেবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন তাঁকে কলকাতার এনআরএসে স্থানান্তরিত করা হয়। তারপরেই তাঁর কানের অস্ত্রোপচার হয়। মৃতের মা পূর্ণিমা বাগদি বলেন, রাজু মাঝির চড়ের জন্যই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ও আমার ছেলেকে খুন করেছে। একই অভিযোগ করেছেন বুদ্ধদেবের দুই দাদা। বড় দাদা সুদেব ও মেজ দাদা মহাদেব বলেন, আমাদের ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আমরা দোষীর শাস্তি দাবি করছি। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রাও।
Advertisement
এদিকে অভিযুক্তের স্ত্রী তথা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মণিকার প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ফোন সুইচড অফ ছিল। মঙ্গলকোট থানার পুলিস জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দেখা হবে। মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, কেউ অন্যায় করলে পুলিস তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।



