Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চড়া দামে নারকেল কিনে পিঠে তৈরিতে নারাজ সাধারণ মানুষ

চড়া দামে নারকেল কিনে পিঠে তৈরিতে নারাজ সাধারণ মানুষ
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঘাটাল: বজ্রপাতে একের পর এক নারকেল গাছ মরে গিয়েছে। ফলে ঘাটাল মহকুমার গ্রামগুলিতে নারকেলের আকাল দেখা দিয়েছে। নারকেল না মেলায় রাতে গরম-গরম এবং সকালে বাসি পিঠে খাওয়া থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন। বহু পরিবারই বেশি দামে নারকেল কিনে পিঠেপুলি করতে চাইছেন না। তবে শুধু বজ্রপাতের কারণেই যে গাছ নষ্ট হয়ে নারকেলের আকাল হচ্ছে এই বিষয়টি মানতে নারাজ জেলার হটিকালচার দপ্তর। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার হর্টিকালচার দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বর্ষা চন্দ্র জানান, বজ্রপাতে নারকেল গাছ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেই। তা ছাড়া নারকেল গাছ লাগানোর পর থেকে ঠিক মতো পরিচর্যা না করতে পারলে তার ফলন কম হতে পারে। সেই সঙ্গে আবহাওয়াটাও কিছুটা নারকেল ফলনের বিরূপ রয়েছে। বন্যার জন্য নারকেল গাছের গোড়ায় জল জমে গেলে গাছের সমস্যা হয়। এই সব কারণেও ঘাটাল মহকুমায় নারকেলের ফলন কম হতে পারে। শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালির চোখে ভেসে ওঠে নতুন ধান, খেজুর গুঁড়, আর তার সঙ্গে রকমারি পিঠেপুলি। আর অধিকাংশ পিঠের মূল উপাদান নতুন ধানের চালের সঙ্গে রয়েছে নারকেল। গ্রামের প্রত্যেকটি পরিবারের বাসস্থানের চারদিকে ফাঁকা জায়গায় বেশ কয়েকটি করে নারকেল গাছ দেখা যেত। বাড়িতেও সব সময় মজুত থাকত নিজেদের লাগানো গাছের দশ-বিশটা নারকেল। সেই নারকেল দিয়ে শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছেমতো পিঠেপুলি তৈরি হত।তবে এই আনন্দে ভাটা পড়েছে নারকেল না মেলায়। মূলত বজ্রপাতের জন্য সেভাবে নারকেলের ফলন আর হচ্ছে না। বাজারে নারকেলের দামও আকাশছোঁয়া। দাসপুর থানার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভগীরথ জানা, রানিচকের বাপি রানা প্রমুখ জানান, যেখানে গত বছর ২০-৩০ টাকায় একটি নারকেল পাওয়া যেত, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ থেকে ৬০ টাকা হয়েছে। অত অর্থ খরচ করে নারকেল কিনে পিঠে করতে আর উৎসাহ নেই মানুষের মধ্যে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারকেল ফলনের ঘাটতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তারমধ্যে বজ্রপাতের প্রভাবটাই বেশি। পশ্চিমবঙ্গে প্রতি বছর বজ্রপাতের ফলে বহু নারকেল গাছ মরে যাচ্ছে।  দাসপুর-২ ব্লকের খানজাপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান অনিতা পাত্র বলেন, ‘আমাদের গ্রামপঞ্চায়েত এলাকাতেই বিগত পাঁচ বছরের বজ্রপাতে প্রায় ৬০ শতাংশ নারকেল গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বজ্রপাতে নারকেল গাছ মারা যাওয়ার প্রবণতা দেখে বেশিরভাগ পরিবার নারকেল গাছ লাগানোয় আগ্রহ হারাচ্ছেন।’ ঘাটাল থানার নিশ্চিন্দীপুরের বাসিন্দা দিলীপ মণ্ডল জানান, তাঁর ১০টি গাছের মধ্যে বিগত দু’বছরে আটটি নারকেল গাছ বজ্রপাতে মরে গিয়েছে। দাসপুর থানার দুবরাজপুরের বাসিন্দা গৃহবধূ ঋতুপর্ণা হাজরা বললেন,‘আমার আটটি নারকেল গাছের মধ্যে সবক’টিই বজ্রপাতে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আগে যেখানে নারকেল বিক্রি করতাম। গত বছর থেকে নারকেল কিনে খেতে হচ্ছে।’ 
Advertisement
গাছ থেকে ডাব নামিয়ে নিলে ফলন বেশি হয়। তাই যে কয়েকটি গাছে ফলন হয় তাদের অধিকাংশই নারকেলের পর্যায়ে যায় না। সেটাও নারকেলের চাহিদার অন্যতম কারণ বলে অনেকে মনে করছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ