Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চা বাগান লিজ: ছাব্বিশের ভোটের অঙ্কে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে

চা বাগান লিজ: ছাব্বিশের ভোটের অঙ্কে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: মাদারিহাট ব্লকে মেরিকো ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের সাতটি চা বাগানের মধ্যে মঙ্গলবার চারটি বাগানের লিজ পেয়েছে। এখনও তাদের গ্যারগেন্দা, ডিমডিমা ও বান্দাপানি তিনটি বাগানের লিজ পাওয়া বাকি। আর মেরিকো কোম্পানির লিজ পাওয়ার কৃতিত্ব নিয়ে তরজা শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এটা ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাড়তি অ্যাডভান্টেজ দেবে তৃণমূলকে। 
Advertisement
তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নকুল সোনার বলেন, রাজ্য সরকারের বাগান লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তে শুধু মালিকপক্ষ নয়, উপকৃত হবেন শ্রমিকরাও। সাত বছর আগে রাজ্য সরকার বাগান লিজ দেওয়ার কথা বলেছিল। ফের প্রমাণ হল মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার মুখে যা বলে তা করে দেখায়। 
বিজেপির আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি এমপি মনোজ টিগ্গা অবশ্য বলেন, বিধায়ক থাকার সময় আমিই প্রথম বিধানসভায় চা বাগান লিজ দেওয়ার দাবি তুলেছিলাম। দেরিতে হলেও রাজ্য সরকার বাগান লিজ দেওয়া শুরু করেছে। ফলে ভোটে এজন্য তৃণমূলের কোনও সুবিধা মিলবে না। 
মাদারিহাটে মেরিকো ইন্ডাস্ট্রিজের সাতটি বাগানে শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। সাত বছর ধরে লিজ ছাড়াই বাগানগুলি চলছিল। লিজ না থাকায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ব্যাঙ্ক ঋণও পাচ্ছিল না। ফলে হান্টাপাড়া, ধুমচিপাড়া, বীরপাড়া সহ বহু বাগানের শ্রমিকদের সময় মতো মজুরি দিতে পারছিল না কোম্পানি। শ্রমিকদের কোথাও দুই কোথাও তিন মাসের মজুরি ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছিল। শ্রমিকদের পিএফ ও গ্রাচ্যুইটির টাকা নিয়েও সমস্যা হচ্ছিল। 
এই অবস্থায় যেকোনও সময় মেরিকোর বাগানগুলির শ্রমিকদের বাগান বন্ধের আশঙ্কা তাড়া করছিল। কোম্পানি বাগানের লিজ পাওয়ায় এবার শ্রমিকদের সেই শঙ্কা অনেকটাই দূর হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই আশঙ্কা না থাকায় ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল মাদারিহাটে আরও সুবিধাজনক জায়গায় চলে গেল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। 
উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটের তুলসীপাড়া, ধুমচিপাড়া, বীরপাড়া, হান্টাপাড়া, জলপাইগুড়ির নাগেশ্বরী ও দার্জিলিংয়ের রংলিয়া এই ছ’টি বাগানের লিজ গতকালই পেয়েছে মেরিকো ইন্ডাস্ট্রিজ। মেরিকোর ডিরেক্টর সুরজিৎ বক্সি বলেন, আশা করছি বাকি বাগানগুলির লিজও আমরা দ্রুত পেয়ে যাব এবার।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ