নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও বরানগর: এসআইআর নিয়ে রাজ্যজুড়ে সমস্যার পারদ চড়ছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এসআইআর’য়ের কাজ করতে গিয়ে পাহাড়প্রমাণ চাপে কখনও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বিএলও’রা। কখনও নতুন ভোটার তালিকায় নাম না থাকার আশঙ্কায় বহু মানুষ আত্মহত্যা করছেন। বুধবার কোন্নগরের এক বিএলও সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। ওই প্রৌঢ়া হাসপাতালে ভর্তি। এছাড়াও বেলঘরিয়ার এক বৃদ্ধ ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকার কারণে আতঙ্কিত হয়ে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বরাত জোরে প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁর দু’টি পা কাটা পড়েছে। তিনি পেশায় রিকশচালক।
কোন্ননগর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তপতী বিশ্বাস। তিনি পেশায় অঙ্গনওয়ারি কর্মী। বয়স ৫৫। ওই ওয়ার্ডের ২৭৯ নম্বর বুথের বিএলও তিনি। তাঁর স্বামী প্রবীর বিশ্বাস জুটমিলের প্রাক্তন কর্মী। তাঁদের একটি কন্যা। বুধবার সকালে তপতীদেবী এসআইআর’য়ের কাজে বেরন। দুপুরের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে ফিরে আসেন বাড়ি। সন্ধ্যার পর অসুস্থতা বৃদ্ধি পায়। শরীরের বাঁ দিক অসাড় হতে শুরু করে। তাঁকে দ্রুত কোন্নগর পুরসভা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক জানান, তপতীদেবী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। মস্তিকে রক্তক্ষরণ হয়েছে। শ্রীরামপুরের মহকুমাশাসক শম্ভুদীপ সরকার বৃহস্পতিবার পুরসভা হাসপাতালে এসে তপতিদেবীর সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। মৃতের পরিবারের দাবি, বিএলও অ্যাপে এসআইআর ফর্মের তথ্য তুলতে সমস্যা হচ্ছিল। রাত জেগে কাজ করছিলেন। সাধারণ মানুষ দিনে এবং রাতেও ফোন করে নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইছিল। পাহাড়প্রমাণ কাজের চাপের ফলেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তপতীদেবী। কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, ‘তপতীদেবীর এই পরিণতির জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন।’
এই ঘটনার পাশাপাশি কামারহাটি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রফুল্লনগরে আসআইআর নিয়ে বড়োসড়ো দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। ওই ওয়ার্ডের অশোক সর্দার(৬৩) পেশায় রিকশচালক। বহু বছর ধরে তিনি প্রফুল্লনগরের ভাড়াবাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন। তাঁর তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় অশোকবাবু ও তাঁর স্ত্রী নমিতা সর্দারের নাম নেই। আতঙ্কিত হয়ে তিনি বুধবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বেলঘরিয়া মেইন লাইনে গিয়ে ডাউন শান্তিপুর লোকালের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। ট্রেনের চাকা তাঁর ডানপায়ের হাঁটুর নীচ থেকে কেটে দেয়। বাঁ পা যায় থেঁতলে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা অশোক সর্দারকে আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অস্ত্রোপচার হয়। তাঁর দু’টি পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। বৃদ্ধের মেয়ে চৈতালি সরকার বলেন, ‘বাবার দু’টো পা কেটে বাদ দিতে হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় দাদু-ঠাকুমা, বাবা ও মায়ের নাম ছিল না। সেই আতঙ্কে বাবা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।’