সংবাদদাতা, কালনা: বৃহস্পতিবার কালনা থানার সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের দিঘিরপাড় এলাকায় শতাব্দীপ্রাচীন জয়চণ্ডী মাতার পাষাণপ্রতিমা পুজো হয়েছে। এদিন সকাল থেকে পুজো দিতে ভক্তদের লম্বা লাইন চোখে পড়ে। পুজো ঘিরে এলাকায় মেলা বসে।
সংবাদদাতা, কালনা: বৃহস্পতিবার কালনা থানার সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের দিঘিরপাড় এলাকায় শতাব্দীপ্রাচীন জয়চণ্ডী মাতার পাষাণপ্রতিমা পুজো হয়েছে। এদিন সকাল থেকে পুজো দিতে ভক্তদের লম্বা লাইন চোখে পড়ে। পুজো ঘিরে এলাকায় মেলা বসে।
কথিত আছে, ১০০বছর আগে কালনার দিঘিরপাড় বনজঙ্গলে ঘেরা নির্জন অঞ্চল ছিল। আশপাশে তেমন বসতি ছিল না। সেসময় এলাকায় এক নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পরিবার বসবাস করত। ব্রাহ্মণের এক কন্যা একদিন জল আনতে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতীদের কবলে পড়েন। মেয়েটি সম্ভ্রম বাঁচাতে ছুটতে ছুটতে দেবী চণ্ডীর কাছে প্রার্থনা করেন, তিনি যেন সতীত্ব রক্ষায় তাকে পাষাণ করে দেন। দেবী চণ্ডী ব্রাহ্মণকন্যার কাতর প্রার্থনায় তাঁকে পাষাণ করে দেন। সেই থেকে নির্জন জায়গায় প্রায় ছয় ফুটের একটি মনুষ্যাকৃতি পাথরকে এলাকার বাসিন্দারা জয়চণ্ডী মাতা রূপে পুজো করে আসছেন।
সারাবছর খোলা আকাশের নীচে জঙ্গলে পাথরটি ঢাকা পড়ে থাকে। প্রতিবছর বৈশাখের সংক্রান্তির দিন জঙ্গল কেটে সাফ করে এলাকার বাসিন্দারা জয়চণ্ডী মাতার পুজো করেন। তেমন আড়ম্বর না থাকলেও নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়। আশপাশের আট-দশটি গ্রামের মানুষ পুজো দিতে ভিড় করেন। সাধারণ ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব ও গ্রামের তরফে অনেকে পুজো দিতে আসেন। এবার বিশাল এলাকাজুড়ে মেলা বসেছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শিবির করে ভক্তদের পানীয় জল দিচ্ছে।মানুষের ধারণা, ভক্তিভরে সন্তানের মঙ্গলকামনায় দেবীর পুজো দিলে শুভ ফল লাভ হয়। এলাকার বাসিন্দা অসিতবরণ বাড়ুই বলেন, জয়চণ্ডী মা খুবই জাগ্রত। নিত্যপুজোর ব্যবস্থা না থাকলেও অনেকে মায়ের কাছে সংসারের মঙ্গলকামনায় মানত করেন। বাৎসরিক পুজোর সময় মানত পূরণে এসে পুজো দিয়ে যান।-নিজস্ব চিত্র