Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়া স্টেশনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন ছোট রেলের কোচ ও স্টিম ইঞ্জিন

কাটোয়া স্টেশনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন ছোট রেলের কোচ ও স্টিম ইঞ্জিন
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: শতাব্দী প্রাচীন স্টিম ইঞ্জিন ইতিহাসের পাতায় চলে গিয়েছে। ছোট লাইনের ট্রেনও এখন স্মৃতি। হাওড়া সহ দেশের কয়েকটি জায়গায় রেল মিউজিয়ামে সেসব রেল ইঞ্জিন, কোচের দেখা মিলবে। এদিকে কাটোয়া স্টেশনে ছোট রেলের কোচ পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। রেলের অবহেলার কারণে সেসব হারিয়ে যেতে বসেছে। স্মৃতি বিজড়িত কাটোয়ার ছোট রেলের কোচে চেপে আসতেন সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। এগুলি সংরক্ষণ করে স্টেশন চত্বরে মিউজিয়াম গড়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। কাটোয়া স্টেশনের ম্যানেজার অমিত কুমার বলেন, ছোট রেলের কোচগুলি নিয়ে রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলব। 

Advertisement

ইংল্যান্ডের স্ট্যাফোর্ডে অবস্থিত ডব্লু জি বাগনাল অ্যান্ড কোম্পানি নামে একটি সংস্থা ১৯১৪ সালে স্টিম ইঞ্জিনটি তৈরি করে। একে-১৫ নামে স্টিম ইঞ্জিনটির ওজন প্রায় ২৮ টন আর উচ্চতা তিন মিটারের উপর। চওড়ায় প্রায় আড়াই মিটার।  এই ইঞ্জিনটি কিনেছিল ম্যাকলিওড কোম্পানি। ১৯১৫ সালে বর্ধমান-কাটোয়া এবং ১৯১৭ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর কাটোয়া-আমোদপুর রেলপথটি তৈরি হয়। ওই দুই রেলপথের মালিকানা ছিল ম্যাকলিওড কোম্পানির হাতে। ১৯৬৬ সালে কাটোয়ার ন্যারোগেজ দু’টি ভারতীয় রেলের হাতে চলে আসে। কাটোয়া স্টেশনে থাকা স্টিম ইঞ্জিনটি ১৯৯৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেলপথে যাতায়াত করেছে। ১৯৯৫ সালের এপ্রিল থেকে স্টিম ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। শুরু হয় ডিজেল ইঞ্জিনের ব্যবহার। ফলে  কাটোয়া-বর্ধমান ও কাটোয়া-আমোদপুর শাখায় ১৭টি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে ওই ইঞ্জিনটি ঠাঁই পেয়েছে কাটোয়া স্টেশন চত্বরেই। 
কাটোয়া স্টেশনে ২০১৪ সালে ন্যারোগেজ বন্ধ হয়েছে। কাটোয়া-বর্ধমান ও কাটোয়া-আমোদপুর শাখায় ন্যারোগেজ বন্ধ হয়ে বৈদ্যুতিকরণ করা হয়েছে। আর ন্যারোগেজ বন্ধ হওয়ার ফলে ২১টি ছোট লাইনের কোচ কারশেডে রাখা হয়। ছোট রেলের কোচগুলি কারশেডে থেকে নষ্ট হতে বসেছে। কোচগুলিতে জন্ম নিয়েছে ঝোপজঙ্গল। এই কোচে বসে সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম থেকে কাটোয়া আসতেন ট্রেন ধরার জন্য। রেলের গাফিলতিতে সেই কোচগুলি জং ধরে নষ্ট হতে বসেছে। 
কাটোয়ার বিশিষ্ট শিক্ষক ডঃ তুষার পণ্ডিত বলেন, ছোট রেল শুধু লোহালক্কর নয়, এর সঙ্গে রাঢ় বাংলার বাঙালির জীবন জীবিকার ছবি আঁকা আছে। তাই রেলের কাছে আমাদের দাবি, কোচগুলিকে স্টেশন চত্বরেই মিউজিয়াম করলে ভালো হয়। কারণ কাটোয়া ইতিহাসের শহর। বহু পর্যটকের আগমন হয় এখানে। তাই পর্যটকরা পুরনো দিনের স্মৃতি রোমস্থন করতে পারবেন। 
একদিন এই ছোট রেলই বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহ করেছে। এখন ঝোপ জঙ্গলে পড়ে থাকা রেলের কোচে ঠাঁই নিয়েছে বিষধর সাপ। সেখানে গেলেই ফোঁস ফোঁস শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। দূর থেকে মাঠের মধ্যে সবুজ ধানের বুক চিরে এ কোচগুলি যাতায়াত করত। আজ তারাই অবহেলার শিকার।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ