আমেদাবাদ: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টে চালকের আসনে ভারত। শুক্রবার মোতেরায় দ্বিতীয় দিনের শেষে ২৮৬ রানে লিড নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬২ রানে দাঁড়ি পড়ে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসে। দুই পেসার মহম্মদ সিরাজ ও যশপ্রীত বুমরাহই ভাঙন ধরান। তাঁদের মিলিত সংগ্রহ সাত উইকেট। জবাবে পাঁচ উইকেটে ৪৪৮ তুলেছে ভারত। লোকেশ রাহুল, ধ্রুব জুরেল এবং রবীন্দ্র জাদেজা— তিনজনেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ফলে রীতিমতো কোণঠাসা সফরকারী দল। যা পরিস্থিতি, তাতে প্রথম টেস্টের ফয়সালার জন্য পঞ্চম দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।
গত বছর নিউজিল্যান্ডের কাছে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ০-৩ হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল ভারত। তারপর দেশের মাটিতে আর খেলেনি টিম ইন্ডিয়া। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের অবসরের পর এটাই প্রথম হোম টেস্ট সিরিজ। চোট থেকে সেরে না ওঠায় খেলেননি ঋষভ পন্থও। তবে দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আগাগোড়া দাপট দেখাতে কোনও অসুবিধা হয়নি গিল বাহিনীর। প্রথম দিন মাত্র ৪৪.১ ওভারেই দাঁড়ি পড়েছিল রোস্টন চেজের দলের। সিরাজ (৪-৪০) নতুন বলে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। সঙ্গতে ছিলেন বুমরাহ (৩-৪২)। বাকি তিন উইকেট নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন কুলদীপ যাদব (২-২৫) এবং ওয়াশিংটন সুন্দর (১-৯)। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বাধিক ৩২ করেন জাস্টিন গ্রিভস।
ভারতের ইনিংসে ওপেনিংয়ে ওঠে ৬৮। কিন্তু তারপরই ছন্দপতন। ৩৬ রানে আউট যশস্বী জয়সওয়াল। বেশিক্ষণ থাকেননি সাই সুদর্শনও (৭)।
এরপর ক্যাপ্টেন শুভমান গিলের সঙ্গে ৯৮ রান যোগ করেন রাহুল। হাফ-সেঞ্চুরির পর গিল ফিরলেও রাহুল থামেননি। ২০১৬ সালের পর ঘরের মাঠে ফের তিন অঙ্কের রানে পৌঁছলেন তিনি। সার্বিকভাবে এটি তাঁর ১১তম সেঞ্চুরি। এর মধ্যে দশটিই এসেছে ওপেনার হিসেবে। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই ফেরেন রাহুল। এরপর হাল ধরেন জাদেজা ও ধ্রুব জুরেল। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের ২০৬ রানের জুটিই গড়ে দেয় বড়সড় লিডের ভিত। আরও একবার দলকে ভরসা জোগান ১০৪ রানে অপরাজিত থাকা বাঁ-হাতি জাড্ডু। অন্যদিকে, টেস্ট কেরিয়ারে প্রথম শতরানের ইনিংসকে ১৫টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজালেন জুরেল। বোঝালেন, বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবেও টেস্টে খেলার ক্ষমতা ধরেন তিনি।
ভারতের তিন শতরানকারীর সেলিব্রেশন ছিল আলাদা আলাদা মেজাজের। সদ্যজাত কন্যাসন্তানকে সেঞ্চুরি উৎসর্গ করেন রাহুল। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীতে থাকা বাবার প্রতি সম্মান জানান জুরেল। আর জাদেজা যথারীতি মাতেন সোর্ড-সেলিব্রেশনে, যা হয়ে উঠছে প্রতীকী। বিধ্বস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ধুঁকছে যে!