নয়াদিল্লি: প্রতি বছর ঘটা করে ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘এগজাম ওয়ারিয়ার্স’ নামে একটি বইও লিখেছেন তিনি। অথচ কেন্দ্রের ‘পরখ’ রিপোর্টেই দেখা যাচ্ছে, ভারতে স্কুলস্তরে পড়াশোনার হাল নিম্নগামী। তৃতীয় শ্রেণির মাত্র ৫৫ শতাংশ পড়ুয়া ১ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যা ছোট-বড় হিসেবে সাজাতে পারে। দুই অঙ্কের সংখ্যার যোগ-বিয়োগ করতে পারে মাত্র ৫৮ শতাংশ পড়ুয়া। ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে মাত্র ৫৩ শতাংশ সাধারণ পাটিগণিতের অঙ্ক, যোগ বা দশ পর্যন্ত নামতা জানে এবং দৈনন্দিন জীবনে পাটিগণিতের প্রয়োগ করতে পারে। এই রিপোর্ট তুলে ধরেই কেন্দ্রকে নিশানা করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তাঁর কটাক্ষ, প্রধানমন্ত্রী ‘পরীক্ষা পে চর্চা’র মতো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মপ্রচার করছেন। অথচ কেন্দ্রের রিপোর্টই দেখিয়ে দিচ্ছে, দেশে স্কুলশিক্ষার হাল কতটা খারাপ।
এর মধ্যেই ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ২০১৮ সালে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল। সেবার এর জন্য ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল কেন্দ্র। আর ২০২৫ সালে এর জন্য খরচ হয়েছে ১৮ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ৭ বছরে খরচ ৫২২ শতাংশ বেড়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে কেন্দ্রের অধীন পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্ট, রিভিউ অ্যান্ড অ্যানালিসিস অব নলেজ ফর হলিস্টিক ডেভেলপমেন্ট রাষ্ট্রীয় সর্বেক্ষণ (পরখ) সমীক্ষা হয়। দেশের ৭৪ হাজার ২২৯টি স্কুলের ২১ লক্ষ ১৫ হাজার ২২ জন পড়ুয়াকে নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়। সরকারি ও বেসরকারি-স্কুলের তৃতীয়, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের এই সমীক্ষায় শামিল করা হয়েছিল। আর তাতেই উঠে এসেছে সারা দেশের পড়াশোনার সার্বিক চিত্র।
তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের মাত্র ৫০ শতাংশ পড়ুয়া সাধারণ জ্যামিতিক চিত্র চিনতে পারে। আর ৬১ শতাংশ পড়ুয়া ঘড়ি দেখতে বা দিন, সপ্তাহের হিসেব করতে পারে। ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ পড়ুয়া ‘পাজল’-এর সমাধান করতে পারে। দৈনন্দিন জীবনে ভগ্নাংশের হিসেব করতে পারে ২৯ শতাংশ পড়ুয়া। নবম শ্রেণির ক্ষেত্রেও ছবিটা আলাদা কিছু নয়। মাত্র ৪৫ শতাংশ পড়ুয়া ভারতের সংবিধান, স্বাধীনতা আন্দোলন ও ভারতীয় সভ্যতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখে।
মাত্র ২৮ শতাংশ পড়ুয়া শতাংশের হিসেব ও ৩১ শতাংশ পড়ুয়া অনুপাত ও দশমিকের হিসেব জানে। রিপোর্ট অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে অবশ্য কেন্দ্রীয় পড়ুয়াদের পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভালো বলে পরখের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।