নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: খনি ও খনিজ পদার্থের উপর এতদিন কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজ্যেরও অধিকার ছিল। এবার রাজ্যের সেই অধিকার কমতে চলেছে। সোমবারও রামমন্দির অথবা যন্তরমন্তর বির্তের জেরে সংসদে বিরোধীদের বাধাদান ছিল অব্যাহত। কিন্তু তার মধ্যেই চারটি বিল পেশ করেছে কেন্দ্র। তার মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেশন) সংশোধনী বিল ২০২৬ নিয়ে। এই বিলের মাধ্যমে লিথিয়াম, কোবাল্ট, নিকেলের মতো খনিজ পদার্থ উত্তোলনের লিজ প্রদানের ক্ষেত্রে, সেস ও ট্যাক্স বলবৎ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা দূর হবে বলে দাবি কেন্দ্রের। কিন্তু বিল আইনে পরিণত হলে রাজ্যের অধিকার অনেকটাই কমবে। ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের ৯ বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, খনিজ সমৃদ্ধ জমির উপর রাজ্যের ট্যাক্স বলবৎ করার অধিকার আছে। আদালত জানিয়েছিল, রয়্যালটিকে ট্যাক্স হিসাবে বিবেচনা করা যাবে না। একইসঙ্গে আদালত কেন্দ্রকে কিছুটা অধিকার দিয়ে বলেছিল, প্রয়োজন হলে সংসদে আইন এনে এই ট্যাক্স আরোপ করার সীমা নিয়ন্ত্রিত করা যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশিকা মেনেই নতুন বিলে কেন্দ্র সংযুক্ত করেছে একটি বিশেষ ধারা। ৯ ডি। যা স্পষ্ট করে জানাচ্ছে যে, নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলি পূরণ না করা হলে কোনও রাজ্যই অতিরিক্ত ট্যাক্স, সেস, লেভি খনি ও খনিজ সংক্রান্ত জমিতে বলবৎ করতে পারবে না। যদি করতেই হয়, তাহলে একটি নির্ধারিত সীমার মধ্যে করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের উপর সেই সীমা নির্ধারিত হবে। কিন্তু এই বিলের মাধ্যমে বকেয়া ট্যাক্স, সেস নোটিস নিজেদের ইচ্ছামতো দিতে পারবে না। এতদিন এটি রাজ্যের অধিকারভুক্ত ছিল। এখন ওইসব সংস্থা এই আইনে অনেকটাই রক্ষাকবচ পাবে। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য সরকার বনাম কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ক্ষমতা ও অধিকারের যে অন্তহীন সংঘাত, সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি ইস্যু।



