নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের তুলনায় চলতি বছরে তিন গুণ বেশি অনলাইন কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানাল খোদ কেন্দ্রই। গত সেপ্টেম্বরের মধ্যে এমন ব্লক হওয়া কনটেন্টের সংখ্যা ৩১ হাজার। কেন্দ্রের দাবি, এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিয়ো, ডিপফেক, অনলাইন প্রতারণা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে এমন কনটেন্ট। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা প্রতিবাদ আন্দোলনের বিভিন্ন ভিডিয়ো ব্লক করার অভিযোগ উঠেছিল কেন্দ্রের। এবার ঘুরিয়ে সেই কথা স্বীকার করে নিল তারা। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে এই ধরনের ১২ হাজার কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এই সংখ্যা কমবেশি একই ছিল। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ২২ হাজার। চলতি বছরে কনটেন্ট ব্লকের পরিমাণ এক ধাক্কায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেল। কেন্দ্রের এক আধিকারিক বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ঘটনার সময় এআইয়ের মতো নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে বিভ্রান্তিকর বিষয়বস্তু ছড়ানো আরও সহজ করে দিয়েছে। এর ফলে কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি বিশেষভাবে লক্ষ্মণীয়।’ প্রতি ক্ষেত্রেই ২০০০ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারা প্রয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে কিষান একতা মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট এবং ইউআরএল ব্লক করার নির্দেশ দেওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়। কীসের ভিত্তিতে ব্লক করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট পোস্টের পরিবর্তে কেন পুরো অ্যাকাউন্ট ব্লক ইত্যাদি নিয়ে আদালতে মামলাও দায়ের হয়। ২০২৫ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন প্রায় দেড় হাজার ইউআরএল ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই সব লিংক থেকে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ২০২২ সালে কেন্দ্রের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছিল এক্স। যদিও তাদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। গত বছরও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কয়েকটি ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায় এলন মাস্কের সংস্থা।



