নয়াদিল্লি: বিশ্বের সবথেকে দূষিত ২০টি শহরের মধ্যে ১৩টিই ভারতে। খাস দিল্লি এখন গোটা বিশ্বের দূষণের রাজধানী। চরম দূষণের মধ্যে শ্বাস নিয়ে ভারতবাসীর গড় আয়ু কমছে ৫.২ বছর! সদ্যপ্রকাশিত ২০২৪ সালের ওয়ার্ল্ড এয়ার কোয়ালিটি রিপোর্টে এমনই উদ্বেগজনক ছবি ধরা পড়েছে। তারপরও হুঁশ নেই মোদি সরকারের। দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজেটে বরাদ্দ অর্থের ১ শতাংশও খরচ করতে পারেনি পরিবেশ মন্ত্রক। সংসদে পেশ করা সরকারি তথ্যেই বেআব্রু কেন্দ্রীয় ব্যর্থতা।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দূষণ নিয়ন্ত্রণ খাতে ৮৫৮ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছিল বাজেটে। কিন্তু, তার মধ্যে মাত্র ৭ কোটি ২২ লক্ষ টাকা খরচ করেছে মন্ত্রক। অর্থাৎ ১ শতাংশেরও কম। এহেন গা-ছাড়া মনোভাবে অবাক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, বন ও আবহাওয়া পরিবর্তন সংক্রান্ত সংসদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্যরা। এই নিয়ে মঙ্গলবার মোদি সরকারের তুলোধনা করেছেন তাঁদের একাংশ। যদিও আকাশছোঁয়া ব্যর্থতা আড়াল করতে পাল্টা যুক্তি খাড়া করেছেন মন্ত্রকের আধিকারিকরা। তাঁদের দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রকল্প রয়েছে। সেগুলি চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিবছর অনুমোদনের প্রয়োজন। তা না মেলায় পড়ে রয়েছে ওই টাকা। জানা গিয়েছে, বিগত দু’টি অর্থবর্ষে এই সমস্যা হয়নি। বরাদ্দ হওয়া সমস্ত টাকাই খরচ করা গিয়েছিল। কিন্তু, এবার কী কারণে অনুমোদন মিলল না—এই প্রশ্নের কোনও জবাব আসেনি মন্ত্রকের তরফে।
আধিকারিকদের যুক্তি অবশ্য মানতে নারাজ সংসদীয় কমিটি। পাল্টা সুর চড়িয়ে তারা জানিয়েছে, বায়ু দূষণের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। এই অবস্থায় মন্ত্রকের ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু, তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলি চলবে কি না, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারছে না। ফলে বরাদ্দ অর্থের মাত্র এক শতাংশ খরচ হয়েছে। তাই সময় নষ্ট না করে মন্ত্রকের উচিত আত্মসমীক্ষা করা এবং দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।
এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে নিশানা করেছে বিরোধীরাও। তাদের মতে, মোদি সরকার সব কিছুতেই প্রচার সর্বস্ব। দেশে দূষণের মাত্রা বাড়ছে। দিল্লি কার্যত গ্যাস চেম্বারে পরিণত। শ্বাসকষ্টে ধুঁকছে রাজধানী। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীরা হাত গুটিয়ে বসে রয়েছেন। বরাদ্দের এক শতাংশ খরচ করতে না পারলেও কোনও হেলদোল নেই।
২০১৮ সালে দেশে বায়ু, জল, শব্দ দূষণের মাত্রায় নজর রাখতে চালু হয়েছিল দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প। সেই খাতে অনুদান দেয় মোদির ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট ‘ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম’ (এনসিএপি)। ২০২৬ সালের মধ্যে ১৩১টি শহরের বাতাসে ভাসমান ১০ মাইক্রন বা তার কম ব্যাসের ধূলিকণার (পিএম১০) মাত্রা কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, বরাদ্দ খরচ না হওয়ায় সেই টার্গেট পূরণ করা যাবে কি না সন্দেহ!