নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে নারকীয় সন্ত্রাসবাদী হামলার পরই সিন্ধু চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে ভারত। জলের অভাবের আশঙ্কায় ছটফটানি শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতিবেশী দেশের। তাদের দাবি, এটা যুদ্ধ ঘোষণার সামিল। এরইমধ্যে পাকিস্তানে জলপ্রবাহ রুখতে আটঘাট বাঁধছে কেন্দ্র। জলপ্রবাহ আটকানোর পদ্ধতি হাতে নিতে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাকিস্তানে যে জল যায়, এখন তার সর্বাধিক ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সমীক্ষার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। সরকারের আধিকারিকরা একথা জানিয়েছেন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এব্যাপারে প্রস্তাব পেশ হয়েছে। ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালের এই চুক্তি অনুসারে সিন্ধু অববাহিকার পূর্বদিকের তিন নদী শতদ্রু, বিপাশা ও ইরাবতীর বার্ষিক গড়ে ৩৩ মিলিয়ন একর ফুট (এমএএফ) জলে রয়েছে ভারতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। আর পশ্চিমদিকের সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগার বার্ষিক ১৩৫ এমএএফ জল প্রবাহের বেশিরভাগই পায় পাকিস্তান। এখন ভারত সেই চুক্তি স্থগিত করে দিয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে সিন্ধু, ঝিলম ও চন্দ্রভাগার জল পুরোদস্তুর ব্যবহার করতে চাইছে ভারত। এতে যেমন একদিকে জলবিদ্যুৎ ও কৃষিতে জলসেচ সংক্রান্ত সুবিধা হবে। তেমনই পাকিস্তানও বিপাকে পড়বে। শুক্রবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর জলশক্তিমন্ত্রী সিআর পাতিল জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তান যাতে একফোঁটা জল না পায়, এমনই পরিকল্পনা করছে সরকার। এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছেন। সেইমতোই এই বৈঠক হয়েছে। শাহ ওই সব নির্দেশিকা রূপায়ণের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন।’ সূত্রের খবর, নিজেদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করছে। এব্যাপারে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞরা চুক্তি বাতিলের ফলে প্রাপ্ত জল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্ক অব ড্যামস, রিভার অ্যান্ড পিপল (এসএএনডিআরপি)-র হিমাংশু ঠক্কর বলেছেন, জলাধারের মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকার কারণে এখনই জল প্রবাহ আটকানো যাবে না। চন্দ্রভাগা অববাহিকায় বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলছে। সেগুলি সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত পাকিস্তানে জল প্রবাহ বন্ধ করা যাবে না।