নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একসময় তীব্র হয়েছিল কৃষক বিদ্রোহ। রাজপথে নেমে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিলেন কৃষকরা। সেই আন্দোলন দেশজুড়ে বড়ো রকমের প্রভাব ফেলেছিল। সেইসময় আন্দোলনকারীদের আর্থিক সাহায্য করে বসে ডাক বিভাগের বৃহত্তম কর্মচারী ইউনিয়ন। সংগঠনের হিসাবপত্রে দেখানো হয়, ৫০ হাজার টাকা চাঁদা গিয়েছে কৃষকের কাছে। কেন সরকারের বিরুদ্ধে কর্মীরা পদক্ষেপ করেছেন, সেই অজুহাতকে সামনে এনে ডাককর্মীদের বৃহত্তম সংগঠন ন্যাশনাল ফেডারেশন অব পোস্টাল এমপ্লয়িজ-এর অন্তর্গত অল ইন্ডিয়া পোস্টাল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন গ্রুপ সি-র স্বীকৃতি বা অনুমোদনই বাতিল করে মোদি সরকার। এরপর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শেষ হাসি হাসলেন কর্মীরাই। সংগঠনটির নতুন করে অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে যে পদক্ষেপগুলি করা দরকার, তার নির্দেশ দিয়েছে ডাক বিভাগ।
সংগঠনের কর্তারা জানাচ্ছেন, সরকারের সঙ্গে দর কষাকষির জন্য ইউনিয়নগুলিকে যে অনুমোদন দেওয়া হয়, তার মেয়াদ পাঁচবছর। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গ্রুপ সি সংগঠনের স্বীকৃতি বাতিল করে কেন্দ্র। কর্তাদের অভিযোগ, ডাক বিভাগকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে তার বেসরকারিকরণের উদ্যোগে বাধ সাধছিলেন তাঁরা। সেই কারণেই সরকার চাঁদার অজুহাত দেখিয়ে তাঁদের স্বীকৃতি বাতিল করেছে। স্বীকৃতি ফিরে পেতে মামলা হয় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে। সেখানে বলা হয়েছে, এই ইউনিয়নকে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ চ্যাপ্টারের সম্পাদক অসিত বঙ্গবাস বলেন, দীর্ঘ তিনবছরের আইনি লড়াইয়ের পর আমরা জয় পেয়েছি। অবশেষে সরকার আমাদের মান্যতা দিয়েছে। নিয়মমতো পাঁচবছরের মেয়াদ শেষে আমাদের সংগঠনের অনুমোদন বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। কিন্তু তার আগেই সরকার স্বীকৃতি বাতিল করেছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অবিলম্বে ডাক বিভাগের কর্মীদের মেম্বারশিপ ভেরিফিকেশন শুরু করতে হবে এবং অল ইন্ডিয়া পোস্টাল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নকে সেই ভেরিফিকেশনের সুযোগ করে দিতে হবে। ভেরিফিকেশন চলাকালীন ইউনিয়নকে তার প্রাপ্য সুবিধা দিতে হবে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের শেষে আদালত এই নির্দেশ দিলেও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামগন্ধ করেনি সরকার। ফের আদালত অবমাননার মামলা হয়। সেখানে পরাজয় নিশ্চিত বুঝে, রায়দানের ঠিক আগেই সরকার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল।