Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাজেট ঘোষণার ১৩ মাস পর জল জীবন মিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি কেন্দ্রের, ভোটের বাংলায় নয়া রেল প্রকল্পের অনুমোদন

২০২৪-এর এপ্রিল মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল জল জীবন মিশন প্রকল্পের মেয়াদ। ফলে তার কয়েক মাস পর থেকেই প্রতিটি রাজ্যের এই প্রকল্প বাবদ টাকা দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল মোদি সরকার

বাজেট ঘোষণার ১৩ মাস পর জল জীবন মিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি কেন্দ্রের, ভোটের বাংলায় নয়া রেল প্রকল্পের অনুমোদন
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: ২০২৪-এর এপ্রিল মাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল জল জীবন মিশন প্রকল্পের মেয়াদ। ফলে তার কয়েক মাস পর থেকেই প্রতিটি রাজ্যের এই প্রকল্প বাবদ টাকা দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিল মোদি সরকার। তবে ২০২৫-২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। ফলে টাকা পেয়ে প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া নিয়ে আশায় ছিল রাজ্যগুলি। তবে বাজেটে ঘোষণার পরে মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যকর করতে এক বছরের বেশি সময় লাগিয়ে দিল কেন্দ্র।  কারণ, শেষমেশ মঙ্গলবার এই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। আর এর জেরে প্রকল্পের গতি ব্যাপকভাবে ধাক্কা খেয়েছে বলেই দাবি প্রশাসনের। 

Advertisement

এদিন মেয়াদ বৃদ্ধির সম্মতি দেওয়ার পাশাপাশি এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের ভাগের খরচও বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্র দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে জল জীবন মিশন প্রকল্পের প্রথম পর্যায় সারা দেশের জন্য যা ছিল দু’লক্ষ কোটি টাকার কিছু বেশি। তা এবার বৃদ্ধি পেয়ে হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কোটি টাকা। এব্যাপারে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, দেশের গ্রামীণ এলাকার চিহ্নিত ১৯ কোটি ৩৬ লক্ষ বাড়ির মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি ৮০ লক্ষ বাড়িতে নলবাহিত জল সরবরাহ বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, এখনও এসংক্রান্ত কাজ বাকি রয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। টাকা আটকে রাখায় কেন্দ্রের তুলনায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বেশি খরচ করেছে রাজ্য। সেই ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে মোদি সরকার। এবার সেই টাকা পাওয়া যায় কি না, সে দিকেই নজর রয়েছে প্রশাসনিক মহলের।    
অন্যদিকে, ভোটমুখী বাংলায় দু’টি নয়া রেললাইন তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনীতি বিষয়ক কমিটি। সেগুলি হল সাঁইথিয়া-পাকুড় ফোর্থ লাইন এবং সাঁতরাগাছি-খড়্গপুর ফোর্থ লাইন। এক্ষেত্রে প্রশ্নও উঠছে যে, বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে কি তাহলে বকেয়া মেটাবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার? নাকি নির্বাচনি আবহেও বাংলার ভবিতব্য বঞ্চনাই? এই প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত বরাদ্দের পরিমাণ ধার্য হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। ২০৩০-৩১ আর্থিক বছরের মধ্যে এই দু’টি রেলপ্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রেল জানিয়েছে, এর ফলে বাংলা এবং ঝাড়খণ্ডের অন্তত পাঁচটি জেলার প্রায় দেড় কোটি মানুষ উপকৃত হবেন। বোলপুর-শান্তিনিকেতন, তারাপীঠ, পটচিত্র গ্রামের মতো একাধিক স্থানের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ