নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্বচ্ছ ভারত অভিযানের নামে এ বছর সরকারি ১৫ লক্ষেরও বেশি পুরানো নথি বাতিল করল কেন্দ্র। পাশাপাশি ই-ফাইল বাতিল করা হল ৭ লক্ষ ১ হাজার ৭২৩ টি। রেল, তথ্য-সংস্কৃতি সহ কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রকের এই বাতিল ফাইলের পাশাপাশি পুরানো গাড়ি, আসবাবপত্র বিক্রি করে নরেন্দ্র মোদির সরকার ৯৭০ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা উপার্জনও করেছে। ডাঁই হয়ে থাকা ফাইল, আসবাব ইত্যাদি সরিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দপ্তর সাজিয়ে ২৭৭.৮২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা খালি করা হয়েছে।
সরকারি বিবৃতি দিয়ে স্বচ্ছতা অভিযানে নেমে অর্থ উপার্জন এবং জায়গা খালি করার বিষয়টি বড় করে বলা হলেও আদতে কী কী ফাইল নষ্ট করা হল? কোন কোন নথি অপ্রয়োজনীয় তকমা দিয়ে বাতিল করে বেচা হল? তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ওইসব ফাইলের মধ্যে সরকারের বিতর্কিত কোনো সিদ্ধান্তের গোপন নোট চালাচালির কথা ছিল কি না, তা কে বলবে? যদিও সরকারের বক্তব্য, বছরের পর বছর ডাঁই হয়ে জমে থাকা খবরের কাগজ, ফাইলের কাগজপত্র, পুরানো স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা, গাড়ি, ভাঙা সোফা, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদির মতো বাতিল জিনিসই বিক্রি করা হয়েছে। সিক্রেট কোনো নথি নয়।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রক ও দপ্তরে মোট ২৬ লক্ষ৭৯ হাজার ৮৭৫টি কাগজের নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে। তার মধ্যে থেকে ১৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮২৮টি পুরানো নথি বাতিল করা হয়েছে। ডিজিটালের ক্ষেত্রে ৯ লক্ষ ৫৮ হাজার ৮৬৪টি ই-ফাইল পর্যালোচনা করে ৭ লক্ষ ১ হাজার ৭২৩টি বন্ধ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষ, কাগজবিহীন প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের অঙ্গীকার আরো জোরদার হয়েছে। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই অভিযান চলেছে।
বাতিল সামগ্রী বিক্রি করে সবেচেয়ে বেশি আয় করেছে রেলমন্ত্রক। ৬১৮ কোটি ৬ লক্ষ টাকা। তারপরই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অব মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স। তারা বাতিল বিক্রি করে ৮৮ কোটি ৯৬ লক্ষ টকা আয় করেছে। একইভাবে কয়লা মন্ত্রক ৬১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ৩৪ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা পেয়েছে। বাতিল সামগ্রী সরিয়ে কয়লা মন্ত্রক ১.৪৮ কোটি বর্গফুট জায়গা খালি করেছে। যা সব মন্ত্রকের মধ্যে সর্বাধিক। ভারী শিল্প মন্ত্রক ৫০.১৯ লক্ষ বর্গফুট, প্রতিরক্ষা উৎপাদন দপ্তর তাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ১৯.৩৪ লক্ষ বর্গফুট জায়গা ফাঁকা করেছে।



