নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: টাকা মিলেছে। কিন্তু উপভোক্তার সংখ্যা শূন্য। অর্থাৎ, আর্থিক সহযোগিতার পরেও সেই টাকার ঠিকমতো সদ্ব্যবহারই হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে, এমন তালিকায় নাম রয়েছে দেশের একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের।
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: টাকা মিলেছে। কিন্তু উপভোক্তার সংখ্যা শূন্য। অর্থাৎ, আর্থিক সহযোগিতার পরেও সেই টাকার ঠিকমতো সদ্ব্যবহারই হয়নি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে, এমন তালিকায় নাম রয়েছে দেশের একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যের।
২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষের পুনর্বাসনের জন্য একটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। এর পোশাকি নাম ‘স্মাইল’ (সাপোর্ট ফর মারজিনালাইজড ইন্ডিভিজুয়ালস ফর লাইভলিহুড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজ)। প্রধানত দু’টো ক্ষেত্রের মানুষকে পুনর্বাসন এবং সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর উদ্দেশ্যেই ‘স্মাইল’ হাতে নেওয়া হয়েছে। রূপান্তরকামী এবং ভিক্ষুক। কর্মসূচির সার্বিক রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রক। ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মন্ত্রকের এই ‘স্মাইল’ কর্মসূচির রিপোর্টেই তীব্র জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এতে কি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বড়সড় দুর্নীতির ইঙ্গিত ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে না? যদিও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রক কোনও মন্তব্য করেনি।
ওই কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যানে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের হিসেব উল্লেখ করা হয়েছে। তাতেই দেখা যাচ্ছে যে, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ ২৭ লক্ষ, উত্তরাখণ্ড নয় লক্ষ, মহারাষ্ট্র ৫৩ লক্ষ ৬০ হাজার, হরিয়ানা ২৬ লক্ষ ৬০ হাজার, ওড়িশা ৩৫ লক্ষ ৬০ হাজার, এনডিএ রাজ্য বিহার ৬২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পেয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে একজন ভিক্ষুককেও পুনর্বাসিত করা হয়নি। পাশাপাশি এমন বহু রাজ্য রয়েছে, যারা উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে কোনও অর্থ সহযোগিতা পায়নি। যেমন পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, পাঞ্জাব, পুদুচেরি, গোয়া। তথ্যাভিজ্ঞ মহল প্রশ্ন তুলছে, এই লক্ষ লক্ষ টাকা তাহলে কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে ওইসব ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যে?
সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের নির্দেশিকা মতো, সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর জন্য ভিক্ষুকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন স্বনির্ভর পেশায় নিযুক্ত করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ১০টি পেশাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচার মন্ত্রকের পক্ষ থেকে। সেগুলি হল ছুতোর, ইলেকট্রিসিয়ান, সাইকেল রিপেয়ারিং কর্মী, বই বাঁধাইয়ের কাজ, পেইন্টিং অ্যান্ড ডেন্টিং, টেইলরিং, রাঁধুনি অথবা কেটারিং পরিষেবা, প্লাম্বিং, নাপিত, মুচি, মালি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক স্থানীয় পেশা। শর্তসাপেক্ষে তাঁদের জন্য শেল্টার-হোম তৈরির নিদানও রয়েছে।