Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতে দিনভর তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের

মঙ্গলবার রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এ অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা

সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়িতে দিনভর তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: মঙ্গলবার রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি ‘মোহর’-এ অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই বাগানবাড়িকে ঘিরে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। জমি কেনা থেকে রাস্তা নির্মাণ, বাড়ি তৈরি— সবেতেই দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ। এ নিয়ে মুখ খুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। এদিন ভোর ৬টা নাগাদ ওই বাগানবাড়িতে যান তদন্তকারীরা। টানা সাড়ে বারো ঘণ্টা ধরে তদন্তের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ তাঁরা ফিরে যান। 

Advertisement

এই এলাকার বাসিন্দা শুভেন্দু পাল বলেন, ৮-১০ বছর আগে জমিটি কেনা হয়েছিল। পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি অদ্বৈত দাস এক চাষির কাছ থেকে ওই জমি কিনে মন্ত্রীকে দিয়েছিলেন। এক বছরের মধ্যে ওই বাড়ি তৈরি হয়। ওই বাগানবাড়িতে বহু মানুষের যাতায়াত ছিল। সকলেই বহিরাগত। ফলে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সপ্তাহে একদিন বিশেষ করে রবিবার মন্ত্রী এখানে আসতেন এবং রাতে থাকতেন। আমরা চাই, এর সঠিক তদন্ত হোক।
বিজেপির স্থানীয় মণ্ডলের সভাপতি উজ্জ্বল খামারু বলেন, ওই বাগানবাড়ি আর্থিক দুর্নীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসাররা যে এখানে আসবেন, তা আমাদের ধারণা ছিল। জমি কেনা থেকে বিল্ডিং তৈরি— সবটাই বেআইনি। সিঙ্গুর, চন্দননগর সহ বেশ কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের কাটমানির লেনদেন চলত এখান থেকে। সিঙ্গুরের তৎকালীন বিধায়ক তথা মন্ত্রী বেচারাম মান্না এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। চতুর্দশ অর্থ কমিশনের টাকা, যা পঞ্চায়েতের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল, সেই টাকায় মন্ত্রীর বাগানবাড়ির রাস্তা তৈরি হয়েছে। ২১টি বুথ এলাকা উন্নয়নের অর্থ খরচ হয়েছে মন্ত্রীর বাড়ির রাস্তা তৈরির জন্য। প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমির উপর গড়ে উঠেছে এই বাগানবাড়ি। চাষিদের থেকে জোর করে নেওয়া হয়েছিল ওই জমি। স্থানীয়দের কথায়, ভিতরে সুইমিং পুল, আমোদ-প্রমোদের সমস্ত ব্যবস্থা রয়েছে। শীতকালে রাতের অন্ধকারে মহিলাদের আনাগোনাও ছিল এখানে। রাজ্যে পালাবদলের পর ইন্দ্রনীল সেন একবার এখানে এসেছিলেন।
চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন দুর্নীতির প্রশ্নে কোনো আপস নয়। দুর্নীতির অভিযোগে চন্দননগর থেকে একের পর এক তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হয়েছে। তাঁদের মাথা বাগানবাড়িতে বসেই দুর্নীতির জাল বুনেছিলেন। শোনা যাচ্ছে, কোটি কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে। এই অভিযানকে স্বাগত জানাচ্ছি। যাঁরা ভাবছিলেন, আমরা বেঁচে গিয়েছি, তাঁদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ