নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পরপর দু’বছর বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল হুগলির বৈদ্যবাটি। ২০২৩-’২৪ সালের পর ২০২৫ সালেও কেন্দ্রের স্বচ্ছ ভারত মিশনে ‘সম্ভাবনাময় পরিচ্ছন্ন শহর’ তালিকায় স্থান পেল। চলতি বছর কেন্দ্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক দেশের ৩৪টি ‘সম্ভাবনাময় স্বচ্ছ শহর’ তালিকা ঘোষণা করেছে। সেখানে বাংলা থেকে একমাত্র স্থান পেয়েছে বৈদ্যবাটি। পরপর দু’বছর এই সম্মান মেলায় খুশি শহরের বাসিন্দা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরাও।
বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পিন্টু মাহাত ও স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান জলি চৌধুরী বৃহস্পতিবার দিল্লিতে পুরস্কার নিতে গিয়েছিলেন। পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শান্তনু দত্ত বলেন, ‘যখন প্রথমবার আমরা এই পুরস্কার পেয়েছিলাম। তারপর থেকে সে সম্মান ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। শেষপর্যন্ত যে তা ধরে রাখতে পেরেছি এটাই আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের।’ এর পাশাপাশি তিনি পুরসভার বাসিন্দাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কারণ শুধু পুরসভার চেষ্টায় একটা গোটা শহর কখনও পরিচ্ছন্ন রাখা যায় না। সেই শহরের বাসিন্দারা যদি এগিয়ে না আসেন, তবে এই সম্মান কখনওই পাওয়া যায় না। এমনটাই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। পুরসভার মুকুটে জোড়া পালকের পর সকলে চাইছে, এই স্থান ধরে রাখতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, হুগলির বিভিন্ন পুরসভায় বেশ কয়েকদিন ধরে জঞ্জাল সাফ নিয়ে বিস্তর সমস্যায় পড়তে হয়েছে সেখানকার প্রশাসনকে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বৈদ্যবাটি পুরসভা পরপর দু’বছর এই সম্মান ধরে রাখতে পেরেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও অত্যন্ত গর্বের। পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চিন্ময় চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এটা আমাদের কাছে খুবই আনন্দের। নিজেদের শহর যদি এমন স্বীকৃতি পায় তবে আমাদের বাসিন্দাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। আমাদের সকলকে এই শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করতে হবে।’
মূলত বর্জ্য নিষ্কাশন, রাস্তাঘাটের পরিচ্ছন্নতা, নিকাশি, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য পৃথকীকরণ সহ নানা বিষয় খতিয়ে দেখা হয় পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে। এই বিষয়গুলি বিচার করে সম্মানপ্রদান হয়। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের চোখে রাজ্যের মধ্যে একমাত্র বৈদ্যবাটি পুরসভা জায়গা পেয়েছে। দু’বারের পর এবার হ্যাটট্রিকের মুখ দেখতে চায় বৈদ্যবাটি। তার জন্য বদ্ধপরিকর পুরসভা। পুর প্রশাসকদের আহ্বান, সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসুন মানুষও।
পুরস্কার নিচ্ছেন বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান ও স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান।