Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিপা সংক্রমণ ঠেকাতে নদীয়া স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে সন্তুষ্ট কেন্দ্রের পাঠানো প্রতিনিধিরা

নিপা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নদীয়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তৎপরতা, পরিকল্পনা ও মাঠে নেমে কাজে সন্তোষ প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল।

নিপা সংক্রমণ ঠেকাতে নদীয়া স্বাস্থ্যদপ্তরের উদ্যোগে সন্তুষ্ট কেন্দ্রের পাঠানো প্রতিনিধিরা
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নিপা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নদীয়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তৎপরতা, পরিকল্পনা ও মাঠে নেমে কাজে সন্তোষ প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের ঘুঘরাগাছি এলাকায় স্বাস্থ্যদপ্তরের নেওয়া একাধিক কর্মসূচি, নিয়মিত নজরদারি, স্ক্রিনিং ও সমীক্ষার কাজ সরেজমিনে খতিয়ে দেখে প্রশংসা করেছে তারা। বিশেষ করে সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা।

Advertisement

স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই নদীয়া জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্যদপ্তর সতর্ক হয়ে ওঠে। কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের ঘুঘরাগাছি সহ আশপাশের এলাকায় সঙ্গে সঙ্গে স্ক্রিনিং ও সমীক্ষা শুরু করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রতিদিন নজরদারি চালানো হচ্ছে। কারও জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট বা নিপা ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাব্য কোনও উপসর্গ রয়েছে কি না, তার উপর নজর রাখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত জেলার কোথাও নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনও নিশ্চিত ঘটনা ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।

নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত এক নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নজরদারিতে রাখা হয়। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই নার্স মোট ১৩ জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের পরিচয় চিহ্নিত করে দ্রুত যোগাযোগ করা হয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ফোনে খোঁজখবর ও প্রয়োজনে সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের শারীরিক অবস্থার উপর কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পরও ওই ১৩ জনের কারও শরীরে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি।

এদিকে, নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে জেলাজুড়ে বাদুর ও শুয়োরের উপরেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এই কাজে পশুপালন দপ্তর ও বনদপ্তর যৌথভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সমীক্ষার জন্য কিছু বাদুরের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শুয়োরদের সোয়াইন ফ্লুর টিকাকরণ নিয়েও রাজ্যের তরফে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। টিকা নেওয়ার পর শুয়োরদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে শুয়োরদের দেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত এক নার্সের সঙ্গে নদীয়া জেলার যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসে। জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ওই নার্স গত ডিসেম্বর মাসের ১৫ তারিখ নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। সেই সময়ে তিনি একাধিক মানুষের সংস্পর্শে আসেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই জেলা স্বাস্থ্যমহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পাওয়ার পরই দ্রুত তৎপর হয় নদীয়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর ও প্রশাসন। বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয় এবং ঝুঁকি এড়াতে একাধিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল কৃষ্ণগঞ্জের ঘুঘরাগাছি এলাকায় পরিদর্শনে আসে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের মূল উৎস হল বাদুর। বাদুড়েরে খাওয়া বা কামড় দেওয়া ফল যদি বাজারের অন্যান্য ভালো ফলের সঙ্গে মিশে যায়, সেখান থেকেও এই মারাত্মক ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত বিছানাপত্র, পোশাক কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীর মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

সম্পর্কিত সংবাদ