


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংবিধান সংবিধান বিল পাশের সংখ্যা জোগাড়ে ব্যর্থ মোদি সরকার। সরকারে থেকেও বিল পাশ করাতে না পারায় আপশোসের সুর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর গলায়। বললেন, সরকার চালানোর সংখ্যা আমাদের আছেই। সরকারও আমাদের পড়ছে না। তবে সংবিধান সংবিধান বিল পাশ করানোর মতো সংখ্যা আমাদের নেই। যার জন্য শুক্রবার মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে পারছি না। এর জন্য আমরা দুঃখী। সংবিধান সংশোধনে পর্যাপ্ত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট জোগাড়ে ব্যর্থ হয়ে আপাতত পিছু হটলেও বাদল অধিবেশনেই ফের এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করানোর চেষ্টা করবে মোদি সরকার। সরকারি সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। বিরোধীদের চাপে ওই বিলটিকে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার জন্য সংবিধান সংশোধনের মতো বিলের সঙ্গে যুক্ত করবে না। বর্তমান বিলকে প্রত্যাহার করে স্রেফ এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল আনা হবে।
কারণ, এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল আনতেই হবে। তা নাহলে চলতি বছরে যে সেন্সাস শুরু হয়েছে, সেটির ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন করা যাবে না। ২০২৬ সালের পরেও লোকসভা-বিধানসভার আসন বাড়বে, নাকি একই থাকবে, তার জন্য সংসদের সিলমোহর প্রয়োজন। ১৯৭১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করে ১৯৭৭ সালে বেড়েছিল লোকসভার আসন সংখ্যা। ৫২০ থেকে বেড়ে হয়েছিল ৫৪২। পরে সংবিধান সংশোধন করে ‘দুজন পর্যন্ত’ রাষ্ট্রপতি মনোনীত অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান প্রতিনিধি যুক্ত হয়। আসন সংখ্যা হয় ৫৪৩। ২০০১ সালে সংবিধান সংশোধন হলেও লোকসভা-বিধানসভার আসন সংখ্যাটি ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই থাকবে বলেই সংসদের সিলমোহর পড়ে।
ফলে চলতি বছরে সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। শুরু হয়েছে নতুন সেন্সাস। ২০২৭ সালে তার ফল প্রকাশ হবে। তারই ভিত্তিতে হবে এলাকা পুনর্বিন্যাস বা ডিমিলিটেশন। তাই গড়তেই হবে ডিলিমিটেশন কমিশন। তাদের প্রস্তাব মতোই লোকসভা বিধানসভার আসন হয় একই থাকবে, নয়ত বাড়বে। এলাকা পুনর্বিন্যাসের জন্য কমপক্ষে দেড় বছর সময় লাগবে বলেই সরকারের হিসেব। তাই লোকসভা-বিধানসভায় মহিলাদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব কার্যকর করতে হয় সরকারকে নতুন কোনো সংশোধনী এনে ২০২৯ সাল থেকে বর্তমানের ৫৪৩ আসনের ওপরই কার্যকর করতে হবে। নাহলে অপেক্ষা করতে হবে।