নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লক্ষ্য, আগামী ২০২৯ সালেই বাড়তি আসনে লোকসভার ভোট। তাই আগামী জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশনেই আসতে পারে ডিলিমিটেশন বা এলাকা পুনবির্ন্যাস বিল। সেই মতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছে মোদি সরকার। পুনর্বিন্যাসের বিলের সমালোচক তৃণমূল, ডিএমকে’র মতো দলের সঙ্গেও সরকার কথা বলছে বলেই বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু।
লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করতে চায় কেন্দ্র। তারই লক্ষ্যে গত ১৬ এপ্রিল বিল এনেছিল মোদি সরকার। তবে সংবিধান সংশোধনের নামে একইসঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ আইন ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লাগু করতে চাইলে প্রবল আপত্তি করে বিরোধীরা। মহিলা সংরক্ষণের বিষয়টি সামনে রেখে চলতি বছরের সেন্সাস বা জনগণনার বিষয়কে একপ্রকার অস্বীকার করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
বিরোধীদের চাপের মুখে পড়ে বিল এনেও লোকসভায় তা পাশ করাতে পারেনি মোদি সরকার। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর এটিই ছিল সংসদে প্রথম বিল পাশে মোদির হার। যার ফলে একাট্টা অবস্থান বজায় রেখেই আগামীদিনেও সররকারকে চাপে রাখা যাবে বলেই আত্মবিশ্বাসী বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। তাই ফের বিল আনার আগে বিরোধীদের মন বুঝতেই এবার আলোচনা করেই এগতে চাইছে বিজেপি।
এবার বিল আনা হবে শুধুই এলাকা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত। মূল উদ্দেশ্য হল, লোকসভার আসন বৃদ্ধি। ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই লোকসভার আসন ৫৪৩টি আটকে রয়েছে। তা বাড়াতে গেলে আনতেই হবে এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল। তাই এবার আর অন্য কোনো বিলের সঙ্গে না রেখে স্রেফ পৃথক ডিলিমিটেশন বিল আনা হবে বলেই স্থির হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে দেশে প্রথম ভোটের সময় লোকসভার আসন ছিল ৪৮৯। পরে বাড়তে বাড়তে ১৯৮৯ সালে সেটি হয় ৫৪৩। এবার সেই সংখ্যাই বাড়াতে চায় সরকার। সেজন্য আনতেই হবে এলাকা পুনর্বিন্যাস বিল। সেক্ষেত্রে চলতি বছরের জনগনণা আগামী বছর শেষ হলে তারপরই হবে এলাকা পুনর্বিন্যাস। এরফলে বাড়তে পারে লোকসভার আসন। সরকার ২০২৯ সালেই কার্যকর করতে চাইলেও যাবতীয় পর্ব পেরিয়ে তা কি আদৌ সম্ভব? ওয়াকিবহাল মহলে উঠছে প্রশ্ন।