নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: শুরুর দিকে ধান কেনার পরিমাণ বাড়ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে মোবাইল সিপিসি ও বিভিন্ন এজেন্সির তরফে ধান কেনা বন্ধ করা হয়। আর এতেই বিপাকে পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। কারণ ধান কেনার পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে ধান কেনার টার্গেট পূরণ হবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিকটন। ধান কেনা হয়েছে ২ লক্ষ ১১ হাজার মেট্রিকটন। এখনও অনেক ধান কেনা বাকি রয়েছে। তবে চাষিরা ধান ক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে ধান বিক্রি করতে পারবেন। জেলায় ৩৪টি ধান ক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। চাষিদের কথায়, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ধান ক্রয় কেন্দ্রে গিয়ে ধান বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অগত্যা স্থানীয় এলাকায় ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।
জেলার খাদ্য নিয়ামক অরবিন্দ সরকার বলেন, আপাতত মোবাইল সিপিসি ও ধান ক্রয়কেন্দ্র থেকে ধান কেনা বন্ধ রয়েছে। এই কারণেও ধান কেনার পরিমাণ অনেকটাই কম। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। ধান কেনার পরিমাণ বাড়াতে সবরকম চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, জেলার চাষিরা বর্তমানে শস্যবিমা, কৃষক বন্ধু সহ নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এরফলে শেষ ক’বছরে জেলায় চাষের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে। লাগাতার চেষ্টার ফলে ধানের উৎপাদন বাড়ছে। আগে চাষিরা প্রতি কুইন্টাল ধান বিক্রি করে ২ হাজার ১৮২টাকা পেতেন। ধান ক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে গেলে ২০টাকা ছাড় দেওয়া হতো। এবছর ধানের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০টাকা। পাশাপাশি, ধান ক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে গেলে ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জেলায় মোবাইল সিপিসি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী সহ বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে ধান কেনার পরিমাণ অনেকটাই বেশি ছিল। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার চাষিরাও ধান বিক্রি করতে পারতেন। জানা গিয়েছে, গত বছর ধান কেনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল ৪ লক্ষ ৭ হাজার মেট্রিকটন। কিন্তু এবছর টার্গেট কমিয়ে করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিকটন। তারপরও টার্গেট পূরণ হবে কি না, এনিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধান বিক্রি নিয়ে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জেলার সবং, ডেবরা, পিংলা, দাসপুর-১, দাসপুর-২ সহ বেশ কিছু এলাকা ধান কেনার ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে। তবে ধান কেনা বন্ধ থাকায় ফোড়েরাজ বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। কেশপুর এলাকার চাষি আকাশ মণ্ডল বলেন, ধান বিক্রির প্রক্রিয়া আরও সহজ হলে চাষিদের সুবিধা হয়। মোবাইল সিপিসি ফের চালু হলে খুবই উপকার হবে। ধান ক্রয় কেন্দ্রে ধান নিয়ে যেতেও খরচ আছে।