সংবাদদাতা, কাটোয়া: কালনা শহরে দু’বছর ধরে পুরসভা পরিচালিত বিভিন্ন শিশুশ্রমিক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি। ওই সমস্ত স্কুল বন্ধ হওয়ায় সেখানকার শিক্ষক-কর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বহু দুঃস্থ পরিবারের ছেলেমেয়ে ন্যূনতম শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কালনা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তপন পোড়েল বলেন, মোদি সরকার জাতীয় শিশুশ্রমিক প্রকল্পে টাকা না দেওয়ায় পুরসভা আর এসমস্ত স্কুল চালাতে পারেনি।
শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তরাঁ, ইটভাটা, দোকানে একসময় শিশুশ্রমিকের রমরমা ছিল। স্কুলের গণ্ডি না পেরিয়ে স্বল্প বেতনে কেউ হোটেলে এঁটো থালা মাজত, আবার কেউ চায়ের দোকানে কাপ-প্লেট ধুয়ে দিত। এখনও এমন শিশুশ্রমিক চোখে পড়ে। তবে এখন অনেকেই বাবা-কাকার সঙ্গে কাজের খোঁজে কেরালা, তামিলনাড়ুতে রওনা দিচ্ছে। শিশুশ্রমিকদের শিক্ষালাভের ব্যবস্থা করতেই এই সমস্ত স্কুল তৈরি হয়েছিল। জাতীয় শিশুশ্রমিক প্রকল্প থেকে রাজ্যের নানা পুরসভায় টাকা বরাদ্দ করা হতো। পুরকর্মীরা শহরের শিশুশ্রমিকদের ওই স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করতেন। স্কুলে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-শিক্ষিকা, ক্লার্ক নিয়োগের পাশাপাশি মিড-ডে মিলের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। পুরসভার দাবি, এতে শিশুশ্রমিকের সংখ্যা কমেছিল।
কিন্তু ২০১৯ সালে ছন্দপতন ঘটে। সেসময় কালনা পুরসভায় অনুদান আসা বন্ধ হয়ে যায়। কাটোয়া, দাঁইহাট, গুসকরা সহ নানা পুরসভাতেই একই ঘটনা ঘটে। ওই সমস্ত স্কুল এখন তালাবন্ধ।
কালনা পুরসভার অধীনে চারটি শিশুশ্রমিক বিদ্যালয় ছিল। শহরের ১নম্বর ওয়ার্ডের ভাদুড়ীপাড়া, ১০নম্বর ওয়ার্ডে জাপট এলাকা, ১২নম্বর ওয়ার্ডে মধুবন ও ১৫নম্বর ওয়ার্ডে শ্যামগঞ্জে ওই সমস্ত স্কুল চলত। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১০টা অবধি পড়াশোনা হতো। দু’জন করে শিক্ষক বা শিক্ষিকা, একজন করে ক্লার্ক ও রাঁধুনি ছিল। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সাহায্য আসা বন্ধের পরেও ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কালনা পুরসভা নিজেদের টাকায় এই স্কুল চালাত। তারপর আর তা চালানো সম্ভব হয়নি।
দাঁইহাট পুরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডে একটিই শিশুশ্রমিক বিদ্যালয় ছিল। সেটি তিনবছর ধরে বন্ধ। ওই স্কুলে এখন কমিউনিটি সেন্টার চলছে। গুসকরা শহরে চারটি শিশুশ্রমিক স্কুল ছিল। কিন্তু এখন সেগুলি সবই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রের বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়াই যার একমাত্র কারণ। প্রতীকী চিত্র