নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃতীয়বার সরকারে এসে ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা ফোর’ (পিএমজিএসওয়াই-৪) চালু করার কথা ঘোষণা করেছিল মোদি সরকার। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় বছর। অথচ, পিএমজিএসওয়াই-৪ প্রকল্পে তিনটি ডবল ইঞ্জিন রাজ্যসহ মাত্র ছয়টি রাজ্যকে নতুন রাস্তা তৈরির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র, যা মোট প্রকল্পের মাত্র ১৬ শতাংশ।
২০২৪ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পরের পূর্ণাঙ্গ বাজেটে এই প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ের ঘোষণা করেন কেন্ত্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তার মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ এলাকার ২৫ হাজার জনবসতিকে জুড়তে ৬২ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে বলে জানানো হয়। এজন্য খরচ হওয়ার কথা ৭০ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। তবে বাস্তব বলছে অন্য কথা। গত দেড় বছরে অনুমোদিত হয়েছে মাত্র ১০ হাজার কিলোমিটার রাস্তা। তাতে জুড়বে মূলত ছত্তিশগড়, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং সিকিমের ৩,২৫০টি জনবসতি। তার মধ্যে ছত্তিশগড়, উত্তরাখণ্ড ও রাজস্থান হল ডবল ইঞ্জিন রাজ্য। সেক্ষেত্রে ব্রাত্য থেকে গিয়েছে বাংলাসহ অন্য একাধিক রাজ্য। সূত্রের খবর, প্রায় একবছর আগেই পশ্চিমবঙ্গে চার হাজার গ্রামীণ জনবসতির জন্য উন্নত সড়ক ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে প্রস্তাব পাঠানো হয় কেন্দ্রকে। মাসের পর মাস কেটে গেলেও এই বিষয়ে রাজ্যকে কোনো সদুত্তর দেয়নি বলেই প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি শুধুমাত্র বিজেপি-শাসিত রাজ্যকেই সুবিধা পাইয়ে দিতে এই প্রকল্প? কারণ, জম্মু ও কাশ্মীর ও সিকিমে সড়ক উন্নয়নের বরাদ্দের পিছনে দেশের সুরক্ষার নিরিখে কৌশলগত কারণ থাকে। সেক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে পাল্লা ভারী ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের। এই বিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানান, এখন তো কোনো কারণ ছাড়াই বিরোধী রাজ্য বলে বাংলাকে বঞ্চনা করা রীতি হয়ে গিয়েছে। তবে এসব করে বাংলাকে ঠেকানো যাবে না। কেন্দ্রের এই বঞ্চনার তোয়াক্কা না করেই সম্পূর্ণ রাজ্যের খরচে পথশ্রী প্রকল্প চালু করেছে নবান্ন। তার কাজ চলছে জোর কদমে।
তবে শুধু পিএমজিএসওয়াই-৪ নয়। এই প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরির অনুমোদনও এখনো দেওয়া বাকি রেখেছে কেন্দ্র।