Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাহাড় নিয়ে ২ এপ্রিল ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকল কেন্দ্র, আমন্ত্রণে বিতর্ক

পাহাড় নিয়ে ২ এপ্রিল ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকল কেন্দ্র, আমন্ত্রণে বিতর্ক
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদাতা, দার্জিলিং: ভোট বড় বালাই! তাই প্রথম মিটিংয়ের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর ফের পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান ইস্যুতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক তলব করল কেন্দ্র। আগামী ২ এপ্রিল দিল্লিতে ওই বৈঠক হবে। তবে এখনও পর্যন্ত মিটিংয়ের আমন্ত্রণ পায়নি জিটিএ কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ের বর্তমান শাসক দল অনীত থাপার বিজিপিএমকেও বৈঠকে ডাকা হয়নি বলে খবর। বিষয়টিকে ধোঁকাবাজি বলে কটাক্ষ করেছে বিজিপিএম। সমগ্র পরিস্থিতি নিয়ে পাহাড়ে নয়া বিতর্ক দানা বেঁধেছে। 

Advertisement

পাহাড়ের পার্মানেন্ট পলিটিক্যাল সলিউশন (পিপিএস) বা স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকার দাবি বহুদিনের। এ ব্যাপারে বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল তাদের শরিক দল জিএনএলএফ। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও এ বিষয়ে একাধিকবার কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মঙ্গলবারও তিনি শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মিটিং ডাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী ২ এপ্রিল সকাল ১১টা নাগাদ নয়াদিল্লির নর্থ ব্লকের ১১৯ নম্বর কক্ষে ওই বৈঠক হবে। বুধবার মিটিংয়ের দিন ঘোষণা করা হয়। 
সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই আমন্ত্রণপত্র পোস্ট করে রাজু বিস্তা বলেন, দার্জিলিং পাহাড়, তরাই এবং ডুয়ার্সের সমস্যাগুলি নিয়ে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা ডেকেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্থানীয় সকল অংশীদারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে বৈঠকে ডাকা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্রমন্ত্রী (উত্তর)। ওই বৈঠক সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি নিশ্চিত। 
বৈঠকের খবর চাউর হতেই পাহাড়ে উচ্ছ্বসিত পদ্ম শিবিরের শরিক ও বন্ধুরা। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কেন্দ্রীয় মুখপাত্র কিশোর ভারতী। বিজেপি সমর্থিত জিএনএলএফ বিধায়ক নীরজ জিম্বা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। গোর্খাদের স্বপ্নপূরণের বিষয়ে আলোচনা শুরু হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে স্থানীয় এমপি ছাড়াও বিজেপি ও তাদের শরিক দলের এমএলএ, জিএনএলএফ, বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, সিপিআরএমের প্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে। 
কিন্তু ওই বৈঠকের বিষয়ে অনীত থাপার দল বিজিপিএম, তাদের কালিম্পংয়ের এমএলএ, জিটিএ কর্তৃপক্ষ এখনও ওই বৈঠকের চিঠি পাননি। বিজিপিএমের মুখপাত্র তথা জিটিএ’র মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, নিয়ম অনুসারে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করতে হলে জিটিএ’কে ডাকতেই হবে। কারণ এর সংবিধানিক স্বীকৃতি রয়েছে। তাই জিটিএ ছাড়া মিটিং অর্থহীন। তাছাড়া ওই মিটিংয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতিত্ব করছেন না। কাজেই সেটা গুরুত্বহীন একটা মিটিং। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে হাওয়া গরম করতেই এটা পদ্ম শিবিরের কৌশল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ