নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের কেডি (কৈবল্য দায়িনী) কলেজ অব কমার্স অ্যান্ড জেনারেল স্টাডিজের প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্যাপিত হল। এদিন কলেজের ৬৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা, প্রাক্তনীদের সংগঠনের সভাপতি মদনমোহন মাইতি, আইনজীবী বাণীকান্ত ভট্টাচার্য, প্রিন্সিপাল দুলালচন্দ্র দাস সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সেখানে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বহু প্রাক্তনী দেশবিদেশে প্রতিষ্ঠিত। প্রাক্তনীদের সহযোগিতায় এত বড় মাপের অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। কলেজ প্রাঙ্গণে মিউজিয়াম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধায়ক বলেন, প্রাক্তনী হিসেবে কলেজে এসে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। বহু পুরনো কথা মনে পড়ছিল। এই কলেজ প্রাঙ্গণেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসেছিলেন। তাই রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক একটি মিউজিয়াম তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। কলেজের পরিকাঠামো এখন অনেক বদলে গিয়েছে।কলেজের ৬৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ পানিগ্রাহী প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রী এবং বিশিষ্ট অতিথিদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন। ইন্দ্রজিৎবাবু বলেন, সবার সহযোগিতা পেয়ে আপ্লুত। এদিন কলেজের কৃতী পড়ুয়াদের সম্মান জানানো হয়েছে।
১৯৬১ সালে মেদিনীপুর শহরে এই কলেজের পথচলা শুরু হয়। প্রথমদিকে মেদিনীপুর কলেজ ক্যাম্পাসেই পঠনপাঠন হতো। পরে রামগড়ের রাজা নিজের মায়ের নামে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জমি দান করেন। সেখানেই কলেজ গড়ে ওঠে। প্রথম থেকেই কমার্স বিষয়ে পড়াশোনার জন্য এই কলেজের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। এখন অ্যাকাউন্টেন্সি, মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট সহ বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে বাংলা, ইংরেজি ও ভূগোল বিষয়ে অনার্স পড়ানো হয়। পড়ুয়ার সংখ্যা ১৪০০-র বেশি। কলেজের ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে ক্যাম্পাস ঢেলে সাজানো হয়েছে। পড়ুয়াদের উন্নতমানের পরিকাঠামো দিতে একাধিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক বিবেকানন্দ দাস মহাপাত্র, কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মধুমঙ্গল পাল বলেন, এই কলেজের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের পড়ুয়াদের জানাতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষ সবসময় পড়ুয়াদের পাশে থাকবে।-নিজস্ব চিত্র