নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিউটাউনে নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সৌমিত্র রায়ের আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অপরাধী শাস্তি পাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নিউটাউন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকার ১৭টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে গেট প্যাটার্ন টেকনোলজি, একাধিক ডিজিটাল ও ফরেন্সিক প্রমাণেই শাস্তি পেয়েছে অপরাধী। সাইবার ফরেন্সিক, ডিএনএ ফরেন্সিক সহ এই মামলার তদন্তে ড্রোন উড়িয়ে জিও ম্যাপিংয়ের মতো টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। এই মামলার সরকারিপক্ষের বিশেষ আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, প্রতিটি প্রমাণ যত্ন করে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তা থেকেই প্রমাণ করা গিয়েছে, সৌমিত্রই ধর্ষক ও খুনি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের পর মেডিক্যাল রিপোর্টেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে। তারপরই সংগ্রহ করা হয়েছে এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। তাতে জগৎপুরে নাবালিকা টোটোয় তোলা থেকে শুরু করে বাড়ি ফিরে সৌমিত্র’র টোটো পার্কিং, সমস্ত ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছিল। মোট ১৭টি ফুটেজ আদালতের কাছে পেশ করা হয়। ফুটেজে ঘটনার দিন রাতে সৌমিত্র’র টোটোয় নাবালিকাকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল। টোটোচালক যে সৌমিত্র, তা প্রমাণ করার জন্য গেট প্যাটার্ন টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে মানুষের হাঁটাচলার ধরণ প্রমাণ করা যায়।
নির্যাতিতার শরীরের চামড়া সৌমিত্রর নখের ভিতরে পাওয়া গিয়েছিল। ফরেন্সিক ও মেডিক্যাল রিপোর্টে তার প্রমাণ মেলে। বায়োলজিক্যাল এভিডেন্সেও প্রমাণ হয়, সৌমিত্রই ধর্ষণ করেছে। নাবালিকার শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষত ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তা পেশ করা হয়েছে।
বেশ কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স ও টেকনিক্যাল এভিডেন্সও পেশ করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে যে জিও ম্যাপিং করা হয়েছিল, তাও পেশ করা হয়। নিউটাউনের লোহাপুলেই যে ঘটনাটি ঘটেছিল, তার জন্য সেখানকার মাটি ও শুকনো পাতার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তা থেকে প্রমাণিত হয়েছে ওই জায়গাতেই অপরাধটি ঘটেছিল। সেই রিপোর্টও পেশ করা হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে সৌমিত্র’র জামার একটি বোতামও মিলেছিল। পরে সৌমিত্রর বাড়ি থেকে সেই জামাটি উদ্ধার হয়। সেই প্রমাণও পেশ করা হয়। সরকারি পক্ষের বিশেষ আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, এই মামলায় নানা ধরনের ফরেন্সিক পরীক্ষা করা হয়েছিল। যেমন, কেমিক্যাল ফরেন্সিক, ডিএনএ ফরেন্সিক, এমনকী সাইবার ফরেন্সিক প্রমাণও আদালতে পেশ করা হয়েছিল। এই সমস্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই ধর্ষণ-খুনে আদালত সৌমিত্র রায়কে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এদিন আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা হল। ছ’মাসের মধ্যে অপরাধীর শাস্তি মেলায় আমরাও খুশি। -নিজস্ব চিত্র