নয়াদিল্লি: অবশেষে পড়ুয়া, অভিভাবক এবং রাজনৈতিক চাপে পড়ে পিছু হটল সিবিএসই। সোমবার বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের নতুন ‘তিন ভাষা নীতি’ বা ‘থ্রি ল্যাঙ্গুয়েজ ফরমুলা’ মেনে চলতে হবে না। অর্থাৎ এই ব্যাচের জন্য এই নীতি বাধ্যতামূলক নয়।
পাশাপাশি নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের সুবিধার্থে কিছুটা ছাড় দিয়েছে সিবিএসই। ‘এককালীন ছাড়’ হিসাবে পড়ুয়ারা চাইলে দু’টি বিদেশি ভাষা রাখতে পারবে। সেক্ষেত্রে তৃতীয় ভাষা হিসাবে একটি ভারতীয় ভাষা রাখা বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য, গত মে মাসে সিবিএসই-র একটি নির্দেশিকা ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ১ জুলাই থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য তিনটি ভাষা পড়া বাধ্যতামূলক। তারমধ্যে অন্তত দু’টি ভারতীয় ভাষা থাকতে হবে। এই নির্দেশিকা ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ শুরু হয়। আদালতে যান তাঁরা। পরস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন সিবিএসই-র অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর প্রজ্ঞা এম সিং। তিনি ঘোষণা করেন, চলতি ব্যাচের দশম শ্রেণির পড়ুয়াদের তিন ভাষার নীতি অনুসরণ করতে হবে না। এছাড়া সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা যখন দশম শ্রেণিতে উঠবে, তখন তাদের তৃতীয় ভাষার উপর কোনো বোর্ড পরীক্ষা দিতে হবে না। তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৬-২৭ সালের ব্যাচের নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা চাইলে দু’টি বিদেশি ভাষা পড়া চালিয়ে যেতে পারবে। তবে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসাবে একটি ভারতীয় ভাষাকে রাখতেই হবে।
গত এপ্রিলে বোর্ড জানিয়েছিল, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তিন ভাষা নীতি চালু করা হবে। পাশাপাশি নবম শ্রেণিতে গণিত ও বিজ্ঞানের জন্য দু’টি স্তরের (স্ট্যান্ডার্ড ও অ্যাডভান্সড) পাঠ্যক্রম চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। সব পড়ুয়াকে প্রথমে ৮০ নম্বরের পরীক্ষায় বসতে হবে। তবে উচ্চতর দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী পড়ুয়ারা অতিরিক্ত অ্যাডভান্সড স্তরের পরীক্ষা দিতে পারবে।