নয়াদিল্লি: নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তোলপাড় সারা দেশে। ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের চাপে প্রশ্নফাঁস মামলায় বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু ২০২৬ সালের নিট (ইউজি) প্রশ্নফাঁস মামলায় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের প্রথম শুনানিতেই হোঁচট। সোমবার শুনানি চলাকালে হাজিরই ছিলেন না তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আইনজীবী। তাই বাধ্য হয়ে শুনানি স্থগিত করে দেন বিচারক। সিবিআইকে তাদের তরফে সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করতে বলেছে আদালত। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের অভিযোগে সরব বিরোধী শিবির।
কংগ্রেস বলেছে, ‘সিবিআইয়ের আইনজীবী না আসায় প্রশ্নফাঁস মামলায় প্রথম দিনের শুনানি স্থগিত রাখতে হয়েছে। সরকার এখন রিল তৈরিতে ব্যস্ত। ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের সুবিচার দেওয়ার মতো গুরুতর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার মতো অবস্থা সরকারের নেই।’
প্রশ্নফাঁস নিয়ে ছাত্র-যুব ও বিরোধীদের আন্দোলন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী গত ২৩ জুলাই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, প্রশ্নফাঁসে দোষীদের দ্রুত বিচারের কাঠগড়ায় তুলবেন। এরপরই রাউজ অ্যাভেনিউ কোর্ট কমপ্লেক্সে স্পেশাল ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট কাজ করবে বলে ঘোষণা করেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায়। বিচারক অনু গ্রোভার বালিগাকে বিশেষ বিচারক হিসাবে নিযুক্ত করা হয়।
এদিন প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত দীনেশ বিওয়াল এবং বিকাশ বিওয়ালের জামিনের আবেদন নিয়ে শুনানিও ৩ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সকলের ৬ আগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সিবিআইয়ের দাবি, প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্তদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাতে যুক্ত রয়েছে শুভম খাইনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, বিকাশ বিওয়াল এবং দীনেশ বিওয়াল। ছেলে বিকাশ বিওয়ালের জন্য প্রশ্নপত্র চেয়ে শুভম খাইরনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মাঙ্গিলাল বিওয়াল। এই মাঙ্গিলালের মোবাইল থেকে উদ্ধার হয়েছে নিটের ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নপত্র। এরপর একে একে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র সকলের কাছে পৌঁছে যায়।